সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে গত ২৬ আগস্ট আঘাত হানা আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে নিহত হাজার হাজার মানুষের স্মরণে আজ (৭ সেপ্টেম্বর) সারা দেশে এক দিনের জাতীয় শোক পালন করছে নেপাল। মর্মান্তিক এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মৃত্যুর ১৩তম দিনে দেশব্যাপী এই শোক পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল সরকার।
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দেশের সকল সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশে অবস্থিত নেপালি দূতাবাসগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।
ক্ষতি ও হতাহতের চিত্র:
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (NDRRMA) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী:
* নিহত ও নিখোঁজ: বন্যায় এখন পর্যন্ত ১,৩৪০ জনেরও বেশি মানুষের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৫,০০০ মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছে, যার মধ্যে ৫৮৯ জন বিদেশী নাগরিকও রয়েছেন।
* প্রভাবিত এলাকা: নেপাল-চীন সীমান্তের তিব্বত সংলগ্ন রসুবায় বরফ ও শিলাধসের ফলে ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে এই ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে রसुবা, নুয়াকোট ও ধাদিং অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
* অবকাঠামো ও বাস্তুচ্যুতি: বন্যায় প্রায় ৭,৫০০ ঘরবাড়ি পুরোপুরি ধসে গেছে এবং ৩২,০০০ এরও বেশি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। ধ্বংস হয়েছে বিভিন্ন সড়ক, সেতু এবং হাইড্রোবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
উদ্ধার অভিযান অব্যাহত:
দুর্গম এলাকা ও ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে এখনও নিখোঁজদের উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছে নেপাল সেনাবাহিনী এবং বিভিন্ন দেশের বিশেষ উদ্ধারকারী দল। উদ্ধারকাজে ড্রোন এবং বিশেষায়িত সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। নিখোঁজ স্বজনদের জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়ে অনেক পরিবার হিন্দু রীতি অনুযায়ী ঘাসের কুশপুত্তলিকা তৈরি করে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করতে শুরু করেছে।
জাতীয় শোক পালনের পাশাপাশি উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে নেপাল সরকার।
একটি উত্তর দিন