ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক ও প্রশাসনিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে স্বাধীন কমিশন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ওঠা শতাধিক অভিযোগের সবকটিতেই সিটি দোষী প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রায় চার বছর ধরে চলা তদন্ত শেষে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনে প্রিমিয়ার লিগ। তদন্তে স্পনসরশিপ ও ক্লাবের আর্থিক লেনদেনের তথ্য নিয়ে গুরুতর অসঙ্গতির কথা উঠে আসে।
কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সিটির কিছু স্পনসর কোম্পানি চুক্তির অর্থের একটি অংশ পরিশোধ করলেও বাকি অর্থ ক্লাবটির মালিকানাধীন আবুধাবি ইউনাইটেড গ্রুপের কাছ থেকে আসত। একই সঙ্গে ক্লাবের ব্যয় প্রকৃত অঙ্কের তুলনায় কম দেখানোর অভিযোগও তদন্তে উঠে আসে।
এ ছাড়া প্রিমিয়ার লিগের তদন্ত কার্যক্রমে সিটি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলেও কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর এখন ম্যানচেস্টার সিটির জন্য সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রিমিয়ার লিগের নিয়ম অনুযায়ী জরিমানা, পয়েন্ট কর্তনসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে। গুরুতর ক্ষেত্রে লিগ থেকে বহিষ্কারের মতো শাস্তিও দেওয়া যেতে পারে।
এর আগে ২০২৩-২৪ মৌসুমে আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের দায়ে এভারটন ও নটিংহ্যাম ফরেস্টের পয়েন্ট কাটা হয়েছিল। তবে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে অভিযোগের সংখ্যা ও ব্যাপ্তি অনেক বেশি হওয়ায় সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। ক্লাবটির দাবি, সিদ্ধান্তে আইন ও তথ্যগত ভুল রয়েছে এবং তারা নিজেদের নির্দোষ মনে করে।
প্রিমিয়ার লিগের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড মাস্টার্স বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে নিয়ম ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়ার পর এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো উপযুক্ত শাস্তি নির্ধারণ করা।
সাবেক প্রিমিয়ার লিগ চেয়ারম্যান ডেভিড বার্নস্টেইনও ঘটনাটিকে গুরুতর হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, আপিল প্রক্রিয়া ব্যর্থ হলে শুধু আর্থিক জরিমানা নয়, আরও কঠোর শাস্তির বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের সংস্কৃতি, গণমাধ্যম ও ক্রীড়া সচিব লিসা ন্যান্ডি বলেছেন, প্রিমিয়ার লিগের প্রতিবেদনটি অত্যন্ত গুরুতর এবং স্পষ্ট।
ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে এখন কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে, সেটিই ফুটবল অঙ্গনের অন্যতম বড় প্রশ্ন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে আপিলসহ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
একটি উত্তর দিন