রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আকাশসীমায় যুক্ত হয়েছে অত্যন্ত দ্রুতগতির ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত নতুন প্রজন্মের ‘জেট-পাওয়ার্ড’ কামিকাজে ড্রোন। রাডার ফাঁকি দিয়ে ঘণ্টায় প্রায় ৬০০ কিলোমিটার গতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এই ড্রোনগুলো ইউক্রেনের প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নতুন এই প্রযুক্তি কী?
সামরিক বিশ্লেষক ও গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, রাশিয়া তাদের বহুল ব্যবহৃত ‘গেড়ান’ (Geran) বা শাহেদ সিরিজের ড্রোনগুলোতে প্রথাগত প্রোপেলার ইঞ্জিনের পরিবর্তে শক্তিশালী টার্বোজেট ইঞ্জিন ব্যবহার শুরু করেছে। বিশেষ করে নতুন সংস্করণের ‘গেড়ান-৫’ (Geran-5) ড্রোনগুলোর গতি ঘণ্টায় প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কিলোমিটারে উন্নীত করা হয়েছে, যা এগুলোকে সাধারণ জ্যামিং ও প্রতিরক্ষাব্যূহ এড়াতে সাহায্য করে।
কেন রাডারে ধরা ফেলা কঠিন ও প্রতিরোধে ব্যর্থতা?
১. প্রচণ্ড গতি ও কম প্রতিক্রিয়া সময়: প্রথাগত ড্রোনের গতি যেখানে সাধারণত ১৫০–২০০ কিমি/ঘণ্টা থাকে, সেখানে ৬০০ কিমি গতির ড্রোন চিহ্নিত করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় থাকে।
২. নিচু দিয়ে উড্ডয়ন ও ছোট ক্রস-সেকশন: এই ড্রোনগুলো তুলনামূলকভাবে নিচু উচ্চতায় এবং ক্রুজ মিসাইলের আদলে উড্ডয়ন করায় রাডারের দৃষ্টিসীমার বাইরে (Radar Horizon) থাকে।
৩. ইলেকট্রনিক ওয়্যারফেয়ার প্রতিহতকরণ: নতুন ড্রোনগুলোতে ব্যবহৃত উন্নত অ্যান্টি-জ্যামিং সিগন্যাল প্রযুক্তির কারণে ইউক্রেনের জ্যামিং ব্যবস্থা এগুলোকে সহজে বিভ্রান্ত করতে পারছে না।
ইউক্রেনের পাল্টা পদক্ষেপ:
এই গতির ড্রোন ভূপাতিত করতে সাধারণ ইন্টারসেপ্টর বা রাইফেল-ভিত্তিক প্রতিরক্ষাব্যূহ কার্যকর নয়। ইউক্রেন বর্তমানে ঘণ্টায় ৬০০ কিলোমিটার বা তার বেশি গতিসম্পন্ন নিজস্ব জেট-ইন্টারসেপ্টর ড্রোন এবং নতুন প্রযুক্তির পরীক্ষা-নিরীক্ষা ত্বরান্বিত করছে, যদিও উচ্চগতির কারণে এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা একটি বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
এই ধরনের দ্রুতগতির জ্যামিং- প্রতিরোধী ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার চলমান ইউক্রেন যুদ্ধের আকাশ প্রতিরক্ষায় বড় কৌশলগত পরিবর্তন এনে দিয়েছে।
একটি উত্তর দিন