পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর থেকে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি শুরু করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। শহীদ শরিফ ওসমান হাদী হত্যার বিচার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, শাপলা ও পিলখানা গণহত্যার বিচারের দাবিতে এই পদযাত্রা শুরু হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের জিরো পয়েন্ট থেকে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। পদযাত্রা শুরুর আগে সেখানে অবস্থান নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত করেন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা।
পরে পদযাত্রা শুরু হলে বন্দর এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভিন্ন দাবিসংবলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়।
ইনকিলাব মঞ্চ জানিয়েছে, বাংলাবান্ধা থেকে তেঁতুলিয়া হয়ে টেকনাফ পর্যন্ত এই পদযাত্রা ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার শাহবাগে মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটানোর কথা রয়েছে।
‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চ তিনটি প্রধান দাবি সামনে এনেছে। দাবিগুলো হলো—
শহীদ শরিফ ওসমান হাদী হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।
গণভোটের গণরায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা।
জুলাই, শাপলা ও পিলখানা গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে অবস্থানরত হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
কর্মসূচির প্রথম দিনে বাংলাবান্ধা থেকে পায়ে হেঁটে প্রায় ২১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তেঁতুলিয়ায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পথিমধ্যে বিভিন্ন বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাধারণ মানুষের মধ্যে দাবিসংবলিত লিফলেট বিতরণ করবেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা।
কর্মসূচিতে স্থানীয়দের পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবেরের নেতৃত্বে ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নিয়েছে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, শহীদ শরিফ ওসমান হাদী হত্যার প্রায় ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো সুস্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়নি।
তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িতদের ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান।
জাবেরের অভিযোগ, হাদী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভারত, আওয়ামী লীগ ও ‘র’ জড়িত। তবে তিনি বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়; তাদের অবস্থান আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশে অন্য কোনো রাষ্ট্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলেও তারা তার বিরোধিতা করবেন বলে জানান তিনি।
আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, হাদী হত্যাকাণ্ডকে সাধারণ কোনো হত্যাকাণ্ড হিসেবে না দেখে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তিনি দ্রুত তদন্ত শেষ করে হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে শাপলা চত্বর, পিলখানা ও জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা এবং গণভোটের রায় কার্যকর করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক বলেন, দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। ‘মার্চ ফর ইনসাফ’-এর মাধ্যমে এসব দাবির পক্ষে জনসমর্থন গড়ে তোলার পাশাপাশি সরকারকে সহযোগিতা করতে চান তারা।
তবে দাবি বাস্তবায়নে গড়িমসি কিংবা আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
Leave a Reply