মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ওপেনএআইয়ের ডেভ ডে অনুষ্ঠানে নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল, স্বয়ংক্রিয় এআই সহকারী ‘ডটস’সহ বেশ কিছু নতুন সুবিধার ঘোষণা দেওয়া হয়। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে চ্যাটজিপিটিকে শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং অ্যাপ খোঁজা, ব্যবহার ও বিভিন্ন ডিজিটাল কাজ সম্পন্ন করার কেন্দ্রীয় মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
ওপেনএআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১২০ কোটি মানুষ চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেন। এই বিশাল ব্যবহারকারীভিত্তিকে কাজে লাগিয়ে কথোপকথনের মধ্যেই প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন অ্যাপের পরামর্শ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
কোনো নির্দিষ্ট কাজ করতে কোনো অ্যাপের প্রয়োজন হলে চ্যাটজিপিটি তা শনাক্ত করে ব্যবহারকারীকে সংশ্লিষ্ট অ্যাপের কথা জানাবে। এরপর ব্যবহারকারী চ্যাটজিপিটির পরিবেশের মধ্যেই সেই অ্যাপ ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় কাজ করতে পারবেন।
এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে বিভিন্ন অ্যাপের সংযুক্তি ব্যবস্থাও সম্প্রসারণ করছে ওপেনএআই। এর ফলে অ্যাপ নির্মাতারা চ্যাটজিপিটির ভেতরে নিজেদের সেবার জন্য বিশেষ প্যানেল তৈরি করতে পারবেন। ব্যবহারকারীরা এসব প্যানেলের মাধ্যমে চ্যাটজিপিটির কথোপকথনের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট সেবা ব্যবহার করার সুযোগ পাবেন।
এ ছাড়া ‘চ্যাটজিপিটি দিয়ে প্রবেশ’ সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের চ্যাটজিপিটি পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন তৃতীয় পক্ষের অ্যাপে লগইন করতে পারবেন। শুরুতে ১৬টি প্রতিষ্ঠান এই সুবিধার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ওপেনএআই।
ওপেনএআইয়ের নতুন উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ‘ডটস’ নামের স্বয়ংক্রিয় এআই সহকারী। ব্যবহারকারীর হয়ে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করার জন্য তৈরি এই সহকারীর নিজস্ব কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্রাউজার থাকবে।
প্রয়োজন অনুযায়ী ডটস সংযুক্ত বিভিন্ন অ্যাপও ব্যবহার করতে পারবে। ওপেনএআই জানিয়েছে, এটি চার হাজারের বেশি অ্যাপের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে কাজ করতে সক্ষম হবে।
এর ফলে ভবিষ্যতে কোনো নির্দিষ্ট কাজের জন্য কোন অ্যাপ প্রয়োজন, তা ব্যবহারকারীকে আলাদাভাবে খুঁজে বের করতে নাও হতে পারে। বরং এআই সহকারী ব্যবহারকারীর প্রয়োজন বুঝে উপযুক্ত অ্যাপ নির্বাচন করে সেটি ব্যবহার করে কাজটি সম্পন্ন করতে পারবে।
তবে প্রচলিত অ্যাপ স্টোরগুলোর মতো অ্যাপের মূল্য পরিশোধ, কমিশন বা আয় ভাগাভাগির কোনো কাঠামো এখনো ঘোষণা করেনি ওপেনএআই। আপাতত প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য হলো চ্যাটজিপিটিকে কেন্দ্র করে অ্যাপ খোঁজা, ব্যবহার এবং বিতরণের একটি নতুন ব্যবস্থা তৈরি করা।
Leave a Reply