রাজধানীতে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার চাঁদা না দেওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নাক-কান-গলা ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার পেছনে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ডেভিড ইমন’ গ্রুপের নাম ব্যবহার করে হুমকি ও চাঁদা দাবির মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পটভূমি ও চাঁদা দাবি:
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ৬ আগস্ট ভুক্তভোগী ডা. আসাদুর রহমানের হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা পাঠায় দুষ্কৃতকারীরা। বার্তায় ‘ডেভিড ইমন’-এর নাম উল্লেখ করে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার চাঁদা দাবি করা হয় এবং টাকা পরিশোধের জন্য ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়। প্রারম্ভিক অবস্থায় বিষয়টিকে ভুয়া বা গুরুত্বহীন মনে করে এ এড়িয়ে যান চিকিৎসক।
হামলার নৃশংসতা:
নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার ঠিক দুদিন পর, গত ১৭ আগস্ট রাতে শান্তিনগরের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেম্বার শেষে বের হন ডা. আসাদুর রহমান। তিনি অটোরিকশায় উঠলে কয়েকজন দুর্বৃত্ত পথ রোধ করে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তাঁর মাথা, মুখ ও চোখে গুরুতর আঘাত লাগে এবং দুই চোখের ক cornea মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হামলা পরবর্তী হুমকি:
হামলার প্রায় এক ঘণ্টা পরই একই নম্বর থেকে ফের বার্তা পাঠানো হয়, যেখানে লেখা ছিল— “হাউ ডু ইউ ফিল নাও” (এখন কেমন লাগছে?)। পরবর্তী দিনগুলোতেও তাকে মামলা বা বাড়াবাড়ি না করার হুমকি দিয়ে বেশ কিছু খুদে বার্তা পাঠানো হয়।
পুলিশের পদক্ষেপ ও বর্তমান অবস্থা:
ঘটনার সময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় ‘জীবন’ নামে এক হামলাকারীকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। আটক আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ।
তবে প্রকৃতপক্ষে কারাদণ্ডে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ‘ডেভিড ইমন’-এর কোনো অনুসারী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, নাকি তার নাম ব্যবহার করে অন্য কোনো অপরাধী চক্র এই চাদাবাজি ও হামলা চালিয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এদিকে একজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকের ওপর এমন নির্মম হামলার ঘটনায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সচেতন চিকিৎসক সমাজ।
একটি উত্তর দিন