সরকার দাম বাড়িয়ে দেওয়ার পরও রাজধানীর বাজারগুলোতে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট পুরোপুরি কাটেনি। এরই মধ্যে সয়াবিনের এই তীব্র সরবরাহাভাবের মাঝেই বাজারে নতুন করে আটা ও ময়দার দাম বাড়ায় নিত্যপণ্যের বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ ভোক্তাদের বাজারের বাজেটে এবং বেকারি শিল্পে।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ও রাজধানীর খুচরা বাজার সূত্রে জানা গেছে, এক মাসের ব্যবধানে খোলা আটার দাম বেড়ে প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫০ টাকায় ঠেকেছে। ময়দার দাম বেড়ে খোলা বাজারে প্রতি কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং প্যাকেটজাত ময়দা ৭৫ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক মাস আগের তুলনায় কেজিতে প্রায় ১০ টাকা পর্যন্ত বেশি।
আটা-ময়দার এমন দরবৃদ্ধির কারণে বেকারি পণ্য—যেমন পাউরুটি, বিস্কুট ও পেস্ট্রির দাম সমন্বয় করার কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ক্ষেত্রবিশেষে পণ্যের দাম বাড়ানো অথবা আগের দাম ঠিক রেখে ওজন কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও বিরিয়ানি হাউজগুলোও অতিরিক্ত খরচ সামলাতে খাবারের দাম বাড়াতে শুরু করেছে।
ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে বর্তমানে সয়াবিন তেলের নতুন নির্ধারিত দাম (লিটারপ্রতি ২০৪ টাকা) কার্যকর হলেও কোম্পানিগুলো থেকে চাহিদামতো সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। অর্ডার দিয়েও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে দোকানিদের। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে বিকল্প বা বেশি দামের তেলে ঝুঁকছেন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে গমের বাড়তি দাম, আমদানিতে অনিশ্চয়তা এবং গ্যাস-বিদ্যুতের অতিরিক্ত খরচের কারণে মিলগুলোতে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। তবে সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ—বাজার মনিটরিংয়ের অভাব ও করপোরেট সরবরাহকারীদের কারসাজির কারণেই বারবার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তেল, চাল ও আটা-ময়দার মতো মৌলিক খাদ্যের এমন ধারাবাহিক দাম বৃদ্ধিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর আর্থিক চাপ ক্রমেই অসহনীয় হয়ে উঠছে।
একটি উত্তর দিন