ভোটার তালিকা পুনর্নিরীক্ষণ ও সংশোধনকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে ভারতজুড়ে। প্রায় ১০০ কোটি ভোটারের মধ্যে বিপুলসংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার ঘটনায় কারসাজির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে বিরোধী দলগুলো। আন্দোলন জোরদার করতে শনিবার রাজধানী দিল্লিতে বিশাল বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে তরুণ নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)।
১৩ কোটি নাম বাদের পরিসংখ্যান ও বিরোধীদের অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুসারে, হালনাগাদ প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে—যা আয়তনে জাপানের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। এর মধ্যে রয়েছে ২ কোটি ৮০ লাখ মৃত ব্যক্তি, ৬ কোটি ৩০ লাখ স্থানান্তরিত ভোটার, ১ কোটি দ্বৈত নাম এবং কর্মকর্তাদের মতে প্রায় ৩ কোটি ‘নিখোঁজ’ মানুষ।
তবে কংগ্রেসসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এই প্রক্রিয়া নিয়ে চরম প্রশ্ন তুলেছে। তাদের দাবি, বিশেষ করে মুসলিম ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে অন্যায্যভাবে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই নাম বাদের প্রভাব সাম্প্রতিক রাজ্য নির্বাচনগুলোতে পড়েছে, যা ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অনুকূলে গেছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ। আগামী বছর উত্তর প্রদেশসহ অন্তত সাতটি রাজ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। উত্তর প্রদেশে ইতোমধ্যে ১৩ শতাংশ নাম বাদ পড়েছে, যা নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
অভ্যন্তরীণ মতভেদ ও আন্দোলনের সূত্রপাত সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনারের দুই সহকর্মী গত ১০ মাসে পদ্ধতিগত নানা অনিয়ম ও ডিজিটাল ব্যবস্থা নিয়ে অন্তত ১৪ বার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে লিখিত উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। তবে সেগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরই দেশজুড়ে বিরোধীদের আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। উল্লেখ্য, এই সিজেপি দলটির টানা আন্দোলনের মুখেই গত জুলাই মাসে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন উভয় পক্ষই কারসাজির সব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে। বিজেপির মতে, বিরোধী দলগুলো ভারতের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে কমিশন জানিয়েছে, সব সিদ্ধান্ত আইন মেনেই নেওয়া হয়েছে এবং খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে আপিল করা কিংবা নতুন করে নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে।
দিল্লির সার্বিক পরিস্থিতি শনিবারের ঘোষিত আন্দোলন প্রতিহত করতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন সিজেপি নেতাকে আগাম আটক করা হয়েছে এবং রাজপথে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তা সত্ত্বেও সিজেপির পাশাপাশি বিভিন্ন কৃষক সংগঠন ও বিরোধী দলগুলো বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অটল রয়েছে, যা কেন্দ্র ও রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।
Leave a Reply