যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে একটি হিন্দু মন্দিরে নির্বিচার গুলিবর্ষণ ও গণহত্যার এক ভয়ংকর পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ও দক্ষিণ এশীয়দের হত্যা করার তীব্র স্পৃহা প্রকাশকারী ১৯ বছর বয়সী এক মার্কিন যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মূল ঘটনা
পুলিশ ও কৌঁসুলিদের সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত যুবকের নাম আলেক্সান্দ্রোস পাপোরাকিস (১৯)। সে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ের পালাটাইন এলাকার বাসিন্দা এবং শিকাগো শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত ‘টাকো বেল’ নামক একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করত। তদন্তে জানা গেছে, সে তার সহকর্মীদের কাছে বারবার বলত— “ভারতীয়দের হত্যা করতে আর তর সইছে না”।
গত ১১ অক্টোবর (রবিবার) শিকাগোর অরোরা এলাকার একটি প্রখ্যাত হিন্দু মন্দির— শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর স্বামী (বালাজি) মন্দিরে এই বন্দুক হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে তার বন্দুকটি আটকে (জ্যাম হয়ে) যাওয়ায় সে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় এবং তার এক সহকর্মী পুলিশকে সতর্ক করায় বড় ধরনের একটি মর্মান্তিক গণহত্যা এড়ানো সম্ভব হয়।
উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও উগ্রবাদী ম্যানিফেস্টো
খবর পেয়ে পুলিশ অরোরার ঐ এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তের বাড়ি থেকে ভয়ংকর সব তথ্য ও অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করে। এর মধ্যে রয়েছে:
* একটি এআর-স্টাইলের রাইফেল (যার কোনো সিরিয়াল নম্বর ছিল না বা ‘ঘোস্ট গান’)।
* একাধিক ভর্তি ম্যাগাজিন ও প্রায় ৩০০ রাউন্ড গুলি।
* নাৎসি প্রতীক ও শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদের প্যাচযুক্ত বডি আর্মার বা কৌশলগত ভেস্ট।
* দক্ষিণ এশীয়দের লক্ষ্য করে অবমাননাকর স্লোগান লেখা গ্যাসের ক্যানিস্টার।
তদন্তকারীরা তার একটি আট পাতার ম্যানিফেস্টো বা নথি উদ্ধার করেছেন, যার শিরোনাম ছিল— “হোয়াই আই ফট: এ.কে.এ. (অরোরা শুটারের ম্যানিফেস্টো)”। ওই নথিতে সে নিজেকে একজন শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী ও নব্য নাৎসি হিসেবে দাবি করে এবং ভারতীয়, ইহুদি ও আফ্রিকান-আমেরিকানদের ‘মানুষের চেয়ে নিকৃষ্ট’ বলে উল্লেখ করে যত বেশি সম্ভব মানুষকে হত্যার পরিকল্পনা লিখেছিল।
আইনি পদক্ষেপ ও ভারতের উদ্বেগ
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নিজের বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হুমকি দেওয়া এবং বেআইনিভাবে অস্ত্র রাখার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন এবং আগামী ৩০ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি এই ঘটনার তদন্তে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই (FBI)।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু মন্দিরে এমন হামলার পরিকল্পনার খবরে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল আশা প্রকাশ করেছেন যে, মার্কিন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করবে, দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘৃণামূলক অপরাধ রোধে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এছাড়া এই ঘটনায় গভীর নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন কংগ্রেসের ভারতীয় বংশোদ্ভূত সদস্য রাজা কৃষ্ণমূর্তিও।
Leave a Reply