সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। একই সময়ে ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে নতুন দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি শোধনাগার থেকে আগুনের শিখা ও ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। পরে ঘটনাস্থলে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন দমকলকর্মীরা। তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সৌদি কর্তৃপক্ষ বা আরামকোর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
হুথি বিদ্রোহীদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় দাবি করেন, তারা সৌদির ওই স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। হামলায় লক্ষ্যবস্তুতে আগুন ধরে যায় বলেও দাবি করেন তিনি।
ইয়াহিয়া সারির ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনে হুথিদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে রাজধানী সানায় সৌদি বিমান হামলার জবাব হিসেবেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও নতুন মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার হোয়াইট হাউস থেকে ওহাইও যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা প্রায় পরিত্যাগ করেছে।
ট্রাম্প বলেন, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলেও তেহরান এখন সেই পরিকল্পনা থেকে অনেকটাই সরে এসেছে।
তবে ইরান বরাবরই পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দেশটির দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে এবং এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না।
ট্রাম্প এ সময় তেলের দাম নিয়েও কথা বলেন। তার দাবি, বর্তমানে তেলের দাম কমছে এবং জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়ের তুলনায়ও এখন তেলের দাম কম।
তিনি বলেন, ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে আগের মার্কিন প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
এরপরই ট্রাম্প দাবি করেন, ‘ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির সব পরিকল্পনা প্রায় ছেড়েই দিয়েছে।’
ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা থেকে বিরত রাখার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হলেও ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যে এ বিষয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় হুথিদের হামলার দাবি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
একটি উত্তর দিন