সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাজধানী আবুধাবিতে এক গোপন সফরে গেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সফরকালে তিনি আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের (এমবিজেড) সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের গোপন বৈঠকে মিলিত হন।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম ও রয়টার্সের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রোববার একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন বিমানে চেপে হঠাৎ আবুধাবি পৌঁছান নেতানিয়াহু। সেখানে প্রায় চার ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফরে তিনি প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়ে আবার ইসরায়েলে ফিরে যান।
তবে এই আকস্মিক বৈঠকের সুনির্দিষ্ট কোনো এজেন্ডা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়—কোনো পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
বৈঠকের নেপথ্য ও সময়কাল নিয়ে প্রশ্ন
আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক নানা ইস্যুতে সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের মধ্যে এই সফর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে:
* ৭ অক্টোবরের সতর্কবার্তা বিতর্ক: ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ-এর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের অভিযানের প্রায় দেড় সপ্তাহ আগে নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছিলেন আমিরাতের প্রেসিডেন্ট। সেই খবর প্রকাশ্যে আসার পর নেতানিয়াহু তা অস্বীকার করলেও ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবে উত্তাপ ছড়িয়েছে। ওই বিতর্কের পরেই এই মুখোমুখি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।
* রাজনৈতিক চাপ: ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনের মুখে সাবেক ও বর্তমান বিরোধী নেতারা ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য নেতানিয়াহুকে দায়ী করছেন। এমন নাজুক পরিস্থিতিতে এই গোপন সফরকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
* নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতা: মে মাসের পর এটি নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক দ্বিতীয় গোপন সফর বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক ইরান সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যকার সরাসরি যোগাযোগ আরও জোরালো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ঐতিহাসিক ‘আব্রাহাম আকর্ডস’ বা চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। এর পর থেকেই বাণিজ্য, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও কৌশলগত নিরাপত্তায় দুই দেশ একে অপরের ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসছে।
একটি উত্তর দিন