1. kazi95481@gmail.com : annil : annil
  2. bb24newss@gmail.com : bb24newss@gmail.com : BB24 NEWS
  3. mehedisky09@gmail.com : mehedi : mehedi
  4. softness71@gmail.com : softness :
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
৩ ঘণ্টার মধ্যে পরিবারের কাছে ফিরল হারানো শিশু মিটফোর্ডে পাথরের আঘাতে সোহাগ হত্যা: প্রধান আসামি খালেক হাওলাদারের জামিন ত্রিশালে ৫৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে রোগীদের স্বস্তি দিতে রায়পুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইপিএস-সোলার ও ফ্যান পাঁচ ঘণ্টা জেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে এ অভিযান জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ: আবার বাড়ছে তেলের দাম গাজী নজরুলের এমপি পদ কি বহাল থাকবে, উঠছে নানা প্রশ্ন অনুমোদন ছাড়িয়ে গোপন গুদামে শুল্কমুক্ত মদ, সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ৪ ওয়্যারহাউস সিলগালা সংরক্ষিত নারী আসন বিএনপি জোটেরই থাকছে, উপনির্বাচনের ঘোষণা ইসির মিষ্টির পদত্যাগ, সংরক্ষিত নারী আসন শূন্য

কিশোর গ্যাং দিয়ে দখল-চাঁদাবাজি, পৃষ্ঠপোষকদের খুঁজছে পুলিশ

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৯ সময় দৃশ্য

দেশের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চুরি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এসব গোষ্ঠীর সদস্যদের চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, সহিংসতা, দখল এবং ভাড়াটে লাঠিয়াল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠছে। এসব কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ।

সম্প্রতি পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের এক বৈঠকে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের পাশাপাশি তাদের সংগঠিত, অর্থায়ন ও নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী অপরাধী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ অভিযান আরও জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী অপরাধী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে। এ অভিযান আরও জোরদার করা হবে। নিয়মিত অপরাধীদের তালিকা হালনাগাদ করে সেই অনুযায়ী গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

রাজধানীতে একের পর এক হামলা

চলতি সপ্তাহে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হামলা ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতার কয়েকটি ঘটনা আলোচনায় এসেছে।

মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মুখোশধারীদের হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানের একটি প্লটেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ের একটি ভবনে অস্ত্রধারীদের হামলা এবং ইসিবি চত্বরের কাছে নিউ গিনি প্রপার্টিজ হাউজিং প্রকল্প এলাকায় ২০০ থেকে ২৫০ জনের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এসব ঘটনার মধ্যে অন্তত দুটি ঘটনায় কিশোরদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা হামলায় জড়িত দেড় শতাধিক মানুষের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ছিল কিশোর। আদাবরের হামলাতেও অনেক কিশোর অংশ নিয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডে ফের আলোচনায় কিশোর গ্যাং

গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। এরপর জেলার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান শুরু করে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, ওই হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত কিশোর গ্যাং গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল।

এরপর চট্টগ্রামেও প্রতিপক্ষ কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র বলছে, বর্তমানে কিশোর গ্যাং আর বিচ্ছিন্ন কিছু কিশোরের ছোটখাটো দল হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। বিভিন্ন এলাকায় এসব গোষ্ঠী চাঁদাবাজি, মাদক ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। কোথাও কোথাও তাদের এলাকা দখল, জমি দখল কিংবা ভাড়াটে লাঠিয়াল হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে।

কিছু গ্যাংয়ের নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের থাকার তথ্যও পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্তে পুলিশের নির্দেশ

মঙ্গলবার পুলিশ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত আগস্ট মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. সাইদুর রহমান। তিনি কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জড়িত কি না, তা খুঁজে বের করতে পুলিশকে নির্দেশ দেন।

আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরও কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন।

সভায় তিনি বলেন, অপরাধীকে রাজনৈতিক পরিচয়ে দেখার কোনো সুযোগ নেই; অপরাধীর পরিচয় কেবলই ‘অপরাধী’।

শুধু গ্রেপ্তারে সমাধান নয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেপ্তার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। তাদের যারা সংগঠিত, অর্থায়ন বা নিয়ন্ত্রণ করে, তাদেরও শনাক্ত করা জরুরি।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ওমর ফারুক বলেন, আগে কিশোররা চুরি বা সম্পত্তির ক্ষতির মতো অপরাধে বেশি জড়িত থাকলেও বর্তমানে তাদের সহিংস অপরাধে ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে কিশোরদের ব্যবহার করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তার মতে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের অপরাধে ব্যবহারকারী প্রাপ্তবয়স্কদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, সুবিধাবঞ্চিত কিশোরদের একটি অংশ এসব গ্যাং ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। বেকারত্ব, পারিবারিক ও সামাজিক শৃঙ্খলার দুর্বলতা, আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা এবং রাজনৈতিক বা ব্যবসায়ী পৃষ্ঠপোষকতা এর পেছনে ভূমিকা রাখে।

তিনি বলেন, কিশোর অপরাধীদের ক্ষেত্রে সংশোধন ও পুনর্বাসনের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যারা কিশোরদের ব্যবহার করে অপরাধ থেকে সুবিধা নেয়, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

কয়েক জেলায় ব্যাপক অভিযান

কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জেলায় অভিযান জোরদার করেছে পুলিশ।

গত সোমবার কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর ও নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ১ হাজার ৩১০ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে অন্তত ৭৩০ জনকে পরে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

কুমিল্লায় মঙ্গলবার জেলাজুড়ে পরিচালিত অভিযানের চতুর্থ ধাপে আরও ৩৭৯ জনকে আটক করা হয়। এর আগে তিন ধাপে জেলায় ১ হাজার ২৯৩ জনকে আটক করা হয়েছিল।

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান জানান, যেসব এলাকায় গোলযোগ সৃষ্টির অভিযোগ ছিল, মূলত সেসব এলাকা থেকেই সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়েছে। আটকদের কর্মকাণ্ড যাচাই করে অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকায় শনাক্ত ১২৭ কিশোর গ্যাং

পুলিশের একটি উচ্চপর্যায়ের অভ্যন্তরীণ কমিটির সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় শহরাঞ্চলে কিশোর গ্যাংকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন গ্যাংয়ের সদস্যরা রাস্তায় সহিংসতা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও সাইবার অপরাধে জড়াচ্ছে। গ্যাং সদস্যদের শনাক্ত করে পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় আনার সুপারিশও করা হয়েছে।

চলতি বছরের মে মাসে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, ঢাকায় ১২৭টি কিশোর গ্যাং বা তাদের উপদল শনাক্ত করেছে পুলিশ।

পুলিশের গত বছরের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন মহানগর ও জেলায় আরও ২২৭টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় ছিল। এর মধ্যে প্রায় ১০০টি ছিল চট্টগ্রাম বিভাগে। জেলা পর্যায়ে নোয়াখালীতে ২৫টি গ্যাং সক্রিয় থাকার তথ্য পাওয়া যায়।

পুলিশ সদরদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বেড়েছে বলে মাঠপর্যায়ের তথ্য পাওয়া গেছে।

তিনি জানান, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ ইউনিটগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তবে কিশোরদের রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেটিও নজরদারির আওতায় আনার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

একটি উত্তর দিন

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে *

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২০ bb24news.com
BreakingNews দ্বারা থিম কাস্টমাইজ করা হয়েছে