মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বসতভিটা ও কৃষিজমি জবরদখল করে একের পর এক সামরিক ক্যাম্প ও চৌকি নির্মাণ করছে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। স্থানীয় সূত্র ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, গৃহহীন ও বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজস্ব মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক কেড়ে নিয়ে এই অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, রাখাইনের মংডু, বুথিডং এবং আকিয়াবসহ বেশ কয়েকটি অঞ্চলে রোহিঙ্গাদের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। যেসব পরিবার কয়েক প্রজন্ম ধরে এসব জমিতে বসবাস বা চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছিল, তাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে সেখানে আরাকান আর্মির সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কৌশলগত ঘাঁটি এবং বাঙ্কার তৈরি করা হচ্ছে।
বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, দখলদারিত্বের প্রতিবাদ করলে বা জমি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ওপর নেমে আসছে কঠোর নির্যাতন ও হুমকির খড়্গ। অনেক ক্ষেত্রে বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া কিংবা তাদের ‘সামরিক কাজে ব্যবহৃত সন্ত্রাসী বাহিনীর সহযোগী’ হিসেবে মিথ্যা তকমা দিয়ে এলাকা ছাড়া করা হচ্ছে।
এই জমি দখলের কারণে কেবল আশ্রয় ও আবাসন নয়, বরং চরম খাদ্য সংকটেও পড়ছে স্থানীয় রোহিঙ্গারা। তাদের মূল জীবিকা ধান ও সবজি চাষের জমিগুলো হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায় চরম অর্থনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি তারা। সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশ অভিমুখে রোহিঙ্গাদের নতুন দল আসার পেছনেও আরাকান আর্মির এই অব্যাহত নিপীড়ণ ও জমি জবরদখল অন্যতম বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে যে, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে পুনঃবাসন অসম্ভব করে তোলার কৌশল হিসেবেই এই জমি দখল ও জনসংখ্যার বিন্যাস পরিবর্তনের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। রাখাইনের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি অঞ্চলটির সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি হুমকি তৈরি করছে।
একটি উত্তর দিন