দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে জাল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ব্যবহার করে শিক্ষকতা করার পর অবশেষে ধরা পড়েছেন এক মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষক। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) বিভাগীয় তদন্তে সনদের জালিয়াতি শতভাগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। একই সাথে দীর্ঘ ২৭ বছরে নেওয়া সরকারি বেতন-ভাতাসহ অর্জিত সমস্ত আর্থিক সুযোগ-সুবিধা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
মাউশির তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার সময় তিনি যে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জমা দিয়েছিলেন, পরবর্তীতে অভিযোগের ভিত্তিতে তা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়। বোর্ডের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সনদটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও জাল বলে অবহিত করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়া ও শুনানির পর শিক্ষক জালিয়াতির বিষয়টি কোনোভাবেই অস্বীকার করতে পারেননি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি জানিয়েছে:
সরকারি অর্থ উদ্ধার: চাকরি জীবনে সরকারি কোষাধ্যক্ষ থেকে গৃহীত বেতন, উৎসব ভাতা, বৈশাখী ভাতা ও অন্যান্য সব আর্থিক সুবিধা অবিলম্বে সরকারি ফান্ডে চালানের মাধ্যমে জমা দিতে হবে।
আইনি ব্যবস্থা: জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধিতে মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
বিভাগীয় ব্যবস্থা: বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি ও মাউশির পক্ষ থেকে তাকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তার এমপিও সুবিধা বাতিল করা হয়েছে।
শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে মাউশি স্পষ্ট জানিয়েছে, শিক্ষকদের সনদের সত্যতা যাচাই কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে এবং জাল সনদে কর্মরতদের বিরুদ্ধে এই কঠোর জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।
একটি উত্তর দিন