আর্জেন্টিনার সাবেক ফুটবলার ও ব্রাজিলের এবং -এর সাবেক খেলোয়াড় আলেহান্দ্রো মানকুসোর বিরুদ্ধে ভুয়া ফুটবল কোচিং লাইসেন্স বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ইউওএলের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই প্রতারণার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
সাংবাদিক জোয়ানা ডি আসিসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান ও সাবেক ফুটবলারদের আর্জেন্টিনার ফুটবল কোচেস অ্যাসোসিয়েশন (এটিএফএ)-এর বিভিন্ন স্তরের কোচিং লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিতেন মানকুসো।
অভিযোগ অনুযায়ী, মাত্র ১০ দিনের মধ্যে ‘সি’, ‘বি’, ‘এ’ এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ের ‘প্রো’ লাইসেন্স দেওয়ার কথা বলা হতো। পুরো প্যাকেজের জন্য নেওয়া হতো প্রায় ১ লাখ ব্রাজিলিয়ান রিয়াল।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী হিসেবে বেশ কয়েকজন পরিচিত ফুটবলারের নাম উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ব্রাজিলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার থিয়াগো সিলভা এবং সাবেক তারকা ফেলিপে মেলো।
থিয়াগো সিলভার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মানকুসোর প্রস্তাবিত কোর্সের জন্য তারা অর্থ পরিশোধ করেছিলেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো ক্লাস বা প্রশিক্ষণ শুরু হয়নি। পরে এটিএফএর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তারা কোনো সাড়া পাননি।
অন্যদিকে, অর্থ দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় ফেলিপে মেলোও কার্যক্রম থেকে সরে আসেন। নির্ধারিত প্রশিক্ষণে সরাসরি উপস্থিত হয়ে ক্লাস করার কথা থাকলেও কোনো সময়সূচি না পাওয়ায় তার সন্দেহ আরও বাড়ে।
মেলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে এটিএফএর সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে পোস্টও দিয়েছিলেন। তবে অসঙ্গতি বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত পোস্টগুলো মুছে ফেলেন এবং অর্থ ফেরত চান। পরে তিনি পুরো অর্থ ফেরত পেয়েছেন বলে জানান।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে শুধু থিয়াগো সিলভা ও ফেলিপে মেলো নয়, আরও কয়েকজন পরিচিত ফুটবলার ও সাবেক তারকার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন লুইস গুস্তাভো, দিয়েগো লুগানো, পাওলো গুয়েরেরো, রবার্তো কার্লোস, অ্যালেক্স ডি সুজা, দেজান পেটকোভিচ ও পাউলিনহো।
তবে প্রতিবেদনে নাম থাকা প্রত্যেক ব্যক্তি যে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বা অর্থ দিয়েছেন—এমন দাবি সবার ক্ষেত্রে করা হয়নি।
অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেছে আর্জেন্টিনার ফুটবল কোচেস অ্যাসোসিয়েশন। সংস্থাটির দাবি, কথিত এই চক্রের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং দেখানো কোচিং সনদগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া।
মানকুসোও এটিএফএর সঙ্গে নিজের কোনো সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেছেন।
অভিযোগের জবাবে মানকুসো জানিয়েছেন, ব্রাজিলের অনেক ফুটবলার কোচিং লাইসেন্সের বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। তবে তার দাবি, তিনি কেবল তাদের সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনের যোগাযোগের তথ্য দিতেন।
তার ভাষ্য, ব্রাজিলে তিনি পরিচিত হওয়ায় অনেকেই তার কাছে জানতে চাইতেন কীভাবে কোচিং লাইসেন্স পাওয়া যায়। তিনি তাদের সঠিক জায়গায় যোগাযোগের সুযোগ করে দিতেন, এর বেশি কিছু করতেন না।
তবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ওঠা অভিযোগ এবং এটিএফএর বক্তব্যের সঙ্গে মানকুসোর এই দাবি নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত হলে এই কথিত কোচিং লাইসেন্স বাণিজ্যের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।
একটি উত্তর দিন