এম এ বাছির রাজা, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
“শিক্ষক”—একটি শব্দ, অথচ এর গভীরতা একটি জীবনের চেয়েও বিস্তৃত। শিক্ষক মানেই শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, শাসন ও অনুপ্রেরণার এক অপূর্ব সমন্বয়। জীবনের প্রথম পাঠ থেকে উচ্চশিক্ষার শেষ সীমানা পর্যন্ত যাঁরা শিক্ষার্থীদের হাত ধরে পথ দেখান, তাঁরাই সমাজের আলোর দিশারি।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রবীণ শিক্ষকদের সম্মাননা ও শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাধবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজ মৈত্রী রায়।
অনুষ্ঠানে প্রবীণ শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষক শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না; তিনি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখতে শেখান, নৈতিকতা ও মানবিকতার শিক্ষা দেন এবং ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একজন শিক্ষকের দেওয়া শিক্ষা ও আদর্শ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে।
শৈশবে শিক্ষকের শাসন অনেক সময় কঠিন মনে হলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই শাসনের আড়ালে থাকা ভালোবাসা, মমতা ও কল্যাণকামিতার বিষয়টি উপলব্ধি করা যায়। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষকের উপদেশ, শিক্ষা ও আদর্শ শিক্ষার্থীদের পথ দেখায়।
দার্শনিক এরিস্টটলের বিখ্যাত উক্তি—“Those who educate children are more to be honored than those who produce them”—এর তাৎপর্য তুলে ধরে বলা হয়, সন্তানকে শিক্ষিত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শিক্ষকের অবদান অপরিসীম।
শিক্ষকরা সমাজের ‘আলোর বাহক’। তাঁরা অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেন। তাঁদের জ্ঞান, শ্রম, ত্যাগ ও আদর্শের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে একটি শিক্ষিত ও মানবিক সমাজ।
প্রবীণ শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদানের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে দেশের সব শিক্ষকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
শিক্ষকরা থাকবেন, তাঁদের শিক্ষা ও আদর্শ থাকবে। আর সেই শিক্ষা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে জ্বালিয়ে রাখবে জ্ঞানের প্রদীপ
একটি উত্তর দিন