রাজধানীর উত্তরায় সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা মজুরি এবং বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় শিল্প পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং আন্দোলনকারীদের হামলায় শিল্প পুলিশের এক সদস্যের হাত ভেঙে যায়। ঘটনায় অন্তত ১৯ জন পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের ঘটনার বিবরণ
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উত্তরার রাজলক্ষ্মী ও আজমপুর এলাকায় আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা চালান। সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা মূল বেতন নির্ধারণ ও বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে তারা টানা পঞ্চম দিনের মতো রাজপথে নামেন।
শ্রমিকরা মহাসড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে মারাত্মক যানজটের সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও চড়াও হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও জলকামান ব্যবহার করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় সসংঘর্ষের তোপে শিল্প পুলিশের দুটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সংঘর্ষে এক পুলিশ সদস্যের হাত ভেঙে যায়।
পুলিশের বক্তব্য
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. রেজাউল করিম জানান:
”শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ জনভোগান্তি এড়াতে তাদের বাধা দেয়। কিন্তু আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে হঠাৎ হামলা ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ অনেকেই আহত হয়েছেন।”
তিনি আরও জানান, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলা ও সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
Leave a Reply