গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলা এবং বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির বিষয়ে গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। সামরিক গোয়েন্দা সদস্যদের জবানবন্দি অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের ক্ষেত্রে বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের ঝুঁকি ও পার্শ্বক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার নীতিমালায় উল্লেখযোগ্য শিথিলতা আনা হয়েছিল।
জবানবন্দিতে বলা হয়েছে, হামাসের মাঠপর্যায়ের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার ইব্রাহিম বায়ারিকে হত্যার উদ্দেশ্যে জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় আনুমানিক ২৫০ থেকে ৩০০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার আগে সেখানকার বাসিন্দাদের নিরাপদে সরে যাওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়নি।
আরেকটি জবানবন্দিতে হামাস কমান্ডার আলী কাদীকে লক্ষ্য করে পরিচালিত অভিযানের কথা উঠে এসেছে। ওই হামলায় একটি পরিবারের সব সদস্য নিহত হলেও লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত কমান্ডারটি বেঁচে যান বলে দাবি করা হয়েছে।
সামরিক ড্রোন দলের সদস্য ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রায় ২০ জন পর্যন্ত বেসামরিক নাগরিক হতাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমোদন ছাড়াই ড্রোন হামলা চালানোর সুযোগ ছিল। তাদের অভিযোগ, সেনাদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে গাজার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বেসামরিক মানুষের জীবনের ঝুঁকিকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের নির্বাহী পরিচালক নাদাব ওয়েইম্যান এ ধরনের সামরিক নীতির সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একজন ব্যাটালিয়ন কমান্ডার কিংবা ট্রাকচালককে হত্যার উদ্দেশ্যে শত শত নিরপরাধ মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের সিদ্ধান্তের জন্য শুধু মাঠপর্যায়ের সেনা সদস্য নয়, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে গাজায় বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি নিহত ও আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ৭৪ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ।
গাজায় বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার কার্যক্রম চলছে।
গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, সামরিক অভিযানে আনুপাতিকতার নীতি অনুসরণ এবং সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের দায় নির্ধারণ নিয়ে এসব অভিযোগ নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
Leave a Reply