1. kazi95481@gmail.com : annil : annil
  2. bb24newss@gmail.com : bb24newss@gmail.com : BB24 NEWS
  3. mehedisky09@gmail.com : mehedi : mehedi
  4. softness71@gmail.com : softness :
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
অক্টোবরে আরও ভয়ংকর ডেঙ্গু: ৩ দিনে কেড়ে নিল ২৭ প্রাণ পূজায় একদিনের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন, তবে থাকছে তিনদিনের টানা ছুটি আগামী ডিসেম্বরে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের অপতৎপরতা কঠোরভাবে দমনের হুঁশিয়ারি ডিবিপ্রধানের কাফরুল থানা পুলিশের অভিযানে রাকিব হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন, মূল আসামি গ্রেফতার বাংলাদেশ ইসির সঙ্গে বৈঠকে নেপালের নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি দল আইফোন ডুও কেন অনন্য, যেসব ফিচারে চমকে দেবে ব্যবহারকারীদের তেলের বাড়তি দামের দায় ইউক্রেন ও ডেমোক্র্যাটদের ঘাড়ে চাপালেন ট্রাম্প ৩০ ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য স্বস্তির খবর লক্ষ্মীপুরে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ১৩৫ মাধবপুরে ৯ হাজার কেজি ভারতীয় জিরাসহ ট্রাক জব্দ

এল নিনো কি আবার ভয়ংকর রূপে ফিরছে? বাংলাদেশে এর প্রভাব কি?

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৫ সময় দৃশ্য

এল নিনো আবার সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক বিভিন্ন সংস্থার পূর্বাভাস বলছে, চলতি বছরের জুলাইয়ের শেষ থেকে আগস্টের শুরুতে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এমনকি কিছু কম্পিউটার মডেল শক্তিশালী এল নিনোর সম্ভাবনাও দেখাচ্ছে।

তবে এখনই একে ‘সুপার এল নিনো’ হিসেবে নিশ্চিত করার সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসাগরীয় ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসন (NOAA) জানিয়েছে, এল নিনো তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হতে পারে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, তাপপ্রবাহের প্রবণতা এবং বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন।

এল নিনো কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

এল নিনো ও লা নিনা হলো প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ও বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থার স্বাভাবিক ওঠানামার সঙ্গে সম্পর্কিত জলবায়ু চক্র। এই চক্রকে একসঙ্গে ENSO (El Niño–Southern Oscillation) বলা হয়।

এল নিনোর সময় নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের পানি স্বাভাবিকের তুলনায় উষ্ণ হয়ে ওঠে। এর ফলে বায়ুপ্রবাহ, মেঘ সৃষ্টি ও বৃষ্টিপাতের বৈশ্বিক বিন্যাসে পরিবর্তন আসতে পারে।

অন্যদিকে লা নিনা হলো এর বিপরীত অবস্থা। এ সময় প্রশান্ত মহাসাগরের ওই অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের পানি তুলনামূলকভাবে ঠান্ডা থাকে।

২০২৬ সালে আবার এল নিনোর আশঙ্কা কেন?

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO)-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে মে সময়ে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে ENSO-নিরপেক্ষ পরিস্থিতি থাকার সম্ভাবনা বেশি। তবে পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি এল নিনোর দিকে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, জুলাইয়ের শেষ অথবা আগস্টের শুরুতে এল নিনো সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এল নিনোর পূর্বাভাসে অনিশ্চয়তা থাকে। সমুদ্রের তাপমাত্রা, বায়ুমণ্ডলীয় চাপ, বায়ুপ্রবাহসহ একাধিক সূচকের পরিবর্তনের ওপর এর বিকাশ নির্ভর করে। তাই এখনই এল নিনোর শক্তি বা স্থায়িত্ব সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া কঠিন।

সমুদ্রের তাপমাত্রা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

এল নিনো তৈরির ক্ষেত্রে প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সময়ে বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রাও অস্বাভাবিকভাবে বেশি রয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৪ সালের মার্চে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল, যে সময় শক্তিশালী এল নিনোও সক্রিয় ছিল।

বর্তমান বিভিন্ন জলবায়ু সূচকও প্রশান্ত মহাসাগরে ফের এল নিনো পরিস্থিতির সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করছে।

২০২৪ সালের এল নিনো বাংলাদেশে কী প্রভাব ফেলেছিল?

২০২৪ সালে এল নিনোর প্রভাব বৈশ্বিক আবহাওয়ায় স্পষ্টভাবে দেখা গিয়েছিল। বাংলাদেশেও তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বৃষ্টিপাতের অনিয়মের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ওই বছর দেশের বিভিন্ন এলাকায় টানা ৩৬ দিন তাপপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছিল। এ সময় বিভিন্ন অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩৬ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করে।

তীব্র গরমের পাশাপাশি বৃষ্টিপাতের ঘাটতি কৃষি, পানি সরবরাহ ও জনস্বাস্থ্যের ওপরও চাপ তৈরি করেছিল।

বাংলাদেশে এবার কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে?

এল নিনো সক্রিয় হলে বাংলাদেশে এর প্রভাব সরাসরি ও একই মাত্রায় দেখা যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ বাংলাদেশের আবহাওয়া শুধু এল নিনোর ওপর নির্ভর করে না। ভারত মহাসাগরের তাপমাত্রা, মৌসুমি বায়ু, বঙ্গোপসাগরের পরিস্থিতি এবং অন্যান্য বৈশ্বিক জলবায়ু ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।

তবে এল নিনো শক্তিশালী হলে কয়েকটি ক্ষেত্রে ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তাপমাত্রা বাড়তে পারে

এল নিনোর সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়ার সম্পর্ক দেখা যায়। বাংলাদেশেও এর ফলে মৌসুমি তাপমাত্রা বাড়তে পারে।

বিশেষ করে বর্ষার আগে ও বর্ষার বিভিন্ন সময়ে ঘন ঘন তাপপ্রবাহের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসতে পারে

এল নিনোর কারণে দক্ষিণ এশিয়ার বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতিতে পরিবর্তন হতে পারে। এর ফলে বাংলাদেশের মৌসুমি বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও সময়ের ওপর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

তবে এ প্রভাব সব বছর একই রকম হয় না। কোনো বছর বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে, আবার কোনো এলাকায় স্বাভাবিকের কাছাকাছি বৃষ্টিও হতে পারে।

বর্ষা দেরিতে আসার ঝুঁকি

এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাবের মধ্যে মৌসুমি বায়ুর স্বাভাবিক আচরণে পরিবর্তন অন্যতম। এর ফলে বর্ষা শুরু হওয়ার সময় বা বৃষ্টির ধারাবাহিকতায় পরিবর্তন আসতে পারে।

বাংলাদেশের কৃষি ও পানিসম্পদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

কৃষিতে চাপ বাড়তে পারে

তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বৃষ্টিপাতের অনিয়ম হলে কৃষিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে বৃষ্টিনির্ভর কৃষি, সেচের পানির চাহিদা এবং মাটির আর্দ্রতা নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

খরা পরিস্থিতি তৈরি হলে উপকূলীয় ও অপেক্ষাকৃত শুষ্ক অঞ্চলের কৃষকেরা বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে

তাপপ্রবাহ ঘন ঘন হলে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা এবং অতিরিক্ত গরমজনিত নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, বাইরে কাজ করা শ্রমিক এবং শারীরিকভাবে দুর্বল মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারেন।

বর্ষায় কি বৃষ্টিপাত কমে যাবে?

এটি এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদদের মতে, এল নিনো যদি বর্ষার মাঝামাঝি বা তার পর সক্রিয় হয়, তাহলে বর্ষার বড় একটি সময় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, এল নিনোর প্রভাব বাংলাদেশে কতটা স্পষ্ট হবে, তা নির্ভর করবে এটি কখন সক্রিয় হচ্ছে এবং কতটা শক্তিশালী হচ্ছে তার ওপর।

অর্থাৎ এল নিনো মানেই বাংলাদেশে নিশ্চিত খরা—এমন সরল সমীকরণ করা ঠিক হবে না।

‘সুপার এল নিনো’ হওয়ার আশঙ্কা কতটা?

কিছু কম্পিউটার মডেল শক্তিশালী এল নিনোর সম্ভাবনা দেখালেও এটিকে এখনই ‘সুপার এল নিনো’ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

NOAA-এর বর্তমান পূর্বাভাসে এল নিনো তৈরির সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে সীমিত। ENSO পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে বলে আগামী কয়েক মাসের পূর্বাভাসগুলো আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

তাই শক্তিশালী এল নিনোর আশঙ্কাকে এখন সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে দেখা উচিত, নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে নয়।

বৈশ্বিক উষ্ণতার সঙ্গে এল নিনোর সম্পর্ক কী?

এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র। অন্যদিকে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মূলত মানবসৃষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের দীর্ঘমেয়াদি ফল।

দুটি বিষয় এক নয়। তবে বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে পৃথিবীর সামগ্রিক তাপমাত্রার ভিত্তি এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে একটি শক্তিশালী এল নিনো সক্রিয় হলে তার ওপর অতিরিক্ত উষ্ণতার প্রভাব যুক্ত হয়ে চরম তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোর বৈশ্বিক তাপমাত্রার অস্বাভাবিক প্রবণতাও এ কারণে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

এল নিনো কত দিন স্থায়ী হতে পারে?

এল নিনোর স্থায়িত্ব নির্দিষ্ট নয়। সাধারণত কয়েক মাস সক্রিয় থাকতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও দীর্ঘ সময় ধরে থাকতে দেখা যায়।

তাই জুলাই-আগস্টে এল নিনো সক্রিয় হলেও পরবর্তী মাসগুলোতে এর শক্তি ও প্রভাব কীভাবে পরিবর্তিত হবে, তা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কী?

বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এল নিনোর প্রভাব নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে প্রস্তুত থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আগামী কয়েক মাসে বিশেষ নজর দিতে হবে—

  • তাপমাত্রার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি;

  • তাপপ্রবাহের সংখ্যা ও স্থায়িত্ব;

  • বর্ষা শুরু হওয়ার সময়;

  • মৌসুমি বৃষ্টিপাতের পরিমাণ;

  • কৃষিতে পানির চাহিদা;

  • খরা পরিস্থিতির সম্ভাবনা;

  • বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরের তাপমাত্রার পরিবর্তন।

শেষ কথা

এল নিনো আবার সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও এটি কতটা শক্তিশালী হবে এবং বাংলাদেশে ঠিক কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বর্তমান পূর্বাভাসে জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের দিকে এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে বাংলাদেশের জন্য আগাম সতর্কতার বিষয় হলো—এল নিনো সক্রিয় হলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, তাপপ্রবাহের প্রবণতা এবং বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ছন্দে পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

২০২৪ সালের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে একটি শক্তিশালী এল নিনো বাংলাদেশের আবহাওয়াতেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আগামী মাসগুলোর আবহাওয়া ও ENSO সূচকের পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved 2020 bb24news.com
Theme Customized By BreakingNews