আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রদান ও অভিবাসন নীতিতে অভূতপূর্ব কড়াকড়ি আরোপ করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। এর ফলে দেশটির স্টুডেন্ট ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার সর্বকালের রেকর্ড ছুঁয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য ও সূচক বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন বাংলাদেশিরা।
পরিসংখ্যান ও বর্তমান পরিস্থিতি
অস্ট্রেলিয়া সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অন-অফশোর মিলে ভিসা মঞ্জুরের হার গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে এসেছে।
ভিসা প্রত্যাখ্যানের উচ্চ হার: অফশোর (নিজ দেশ থেকে) আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে আসা অর্ধেকেরও বেশি বা ৫১ শতাংশ ভিসা আবেদনই প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে।
আবেদন ও ভিসা মঞ্জুর হ্রাস: গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন কমেছে প্রায় ৮৩ শতাংশ, আর ভিসা পাওয়ার হার কমেছে রেকর্ড ৯৩ শতাংশ।
সর্বোচ্চ ঝুঁকির লেভেল ৩-এ বাংলাদেশ
অস্ট্রেলিয়ার ভিসা মূল্যায়ন ফ্রেমওয়ার্কে বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ ঝুঁকির শ্রেণি অর্থাৎ ‘লেভেল-৩’ (Level 3) ক্যাটাগরিতে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও কলম্বিয়া উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় থাকলেও চীনে এই ঝুঁকির মাত্রা সবচেয়ে কম (লেভেল-১)। লেভেল-৩ শ্রেণিতে থাকার কারণে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এখন অতিরিক্ত ব্যাংক ব্যালেন্স, আয়ের প্রমাণ এবং কঠিন ইংরেজি দক্ষতা (IELTS/PTE) পরীক্ষার সনদ প্রদর্শন করতে হচ্ছে।
সূচক / ক্যাটাগরিতথ্য ও প্রভাব
বাংলাদেশি আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার৫০%-এর বেশি (প্রায় ৫১%)
অস্ট্রেলিয়ার কান্ট্রি রিস্ক রেটিংলেভেল-৩ (সর্বোচ্চ ঝুঁকি)
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থানঅস্ট্রেলিয়ার ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেটিং কমে লেভেল-২ তে নেমেছে
নতুন নিয়ম (অস্ট্রেলিয়ার ভেতর থেকে)ভিসা হপিং (Visa Hopping) ও ‘অন-শোর’ আবেদন সম্পূর্ণ বন্ধ
ভিসা প্রত্যাখ্যানের মূল কারণসমূহ
১. ‘ভিসা হপিং’ রোধে কড়াকড়ি: অনেকে পর্যটক বা অন্যান্য অস্থায়ী ভিসায় এসে স্টুডেন্ট ভিসায় রূপান্তর করতেন। অস্ট্রেলিয়া সরকার এটি বন্ধ করতে অক্টোবরের শুরু থেকেই কড়া নিয়ম কার্যকর করেছে।
২. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের রেটিং অবনতি: অস্ট্রেলিয়ার বেশ কয়েকটি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝুঁকি রেটিং ১ম স্তর থেকে ২য় স্তরে নেমে এসেছে। ফলে লেভেল-৩ এর দেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীদের ওই প্রতিষ্ঠানগুলোতে আবেদন গ্রহণযোগ্য হতে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
৩. ডকুমেন্টেশন ও জেনুইন স্টুডেন্ট টেস্ট (GST): আর্থিক তথ্যে অসংগতি, পূর্বের পড়াশোনার গ্যাপ এবং উদ্দেশ্য স্পষ্ট না থাকায় সিংহভাগ ভিসা আবেদন বাতিল করা হচ্ছে।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে অসম্পূর্ণ বা অস্পষ্ট নথি দিয়ে আবেদন করলে ভিসা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আসল শিক্ষাগত যোগ্যতা, পর্যাপ্ত বৈধ আর্থিক স্বচ্ছতা ও উপযুক্ত উচ্চশিক্ষা কোর্স নির্বাচন করে সতর্কতার সঙ্গে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
Leave a Reply