,এম এ বাছির রাজা মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :
হবিগঞ্জের মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার সংরক্ষিত পাহাড়ি এলাকা এবং চা বাগানের উঁচু টিলা অবিরাম ক্ষয়ে চলেছে। প্রতি বছর পাহাড়ি ঢল ও প্রবল পানির স্রোতে এসব টিলা ভেঙে তার মাটি ঢলের পানির সঙ্গে এসে নদী ও ছড়ায় বিলীন হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন প্রেক্ষাপট সৃষ্টি হয়েছে মানবসৃষ্ট কারণে। নিয়মিত টিলা কাটা এবং পাহাড় ক্ষয় করে আধুনিক স্থাপনা নির্মাণের অনিয়ন্ত্রিত তৎপরতা এর প্রধান কারণ। এতে করে একদিকে চা বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে পাহাড়, সড়ক, সেতু ও জনবসতিও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চললেও টিলার ক্ষয় বা ভাঙন রোধের বিষয়টি বিশেষভাবে আমলে নিয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের। ভাঙন রোধে সরকারি-বেসরকারিভাবে কার্যকর ও টেকসই কোনো উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ জানিয়েছেন এসব পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানান, পাহাড় ও চা বাগানের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ছোট-বড় ছড়াগুলো দীর্ঘদিন ধরে বালু ও পলিতে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে বর্ষা ও পাহাড়ি ঢলের সময় পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে না পেরে অল্প সময়ের মধ্যে প্রবল স্রোত সৃষ্টি করে। এতে পাহাড় ও চা বাগানের টিলা ধসে পড়ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সড়ক, সেতু ও বসতবাড়ি। সম্প্রতি সরেজমিন এসব ক্ষতির দৃশ্যমান পরিস্থিতি সামনে এসেছে। পাহাড়ি টিলা ক্ষয়ের ফলে এরমধ্যে সাতছড়ি টিপড়া আদিবাসী বসতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া এই এলাকার একাধিক সেতুসহ রামগঙ্গা সেতু, সুরমা চা বাগান এবং ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ ভাঙনের কবলে পড়েছে।
Leave a Reply