তীব্র গ্যাস সংকটে দেশের শিল্প খাতে মারাত্মক বিপর্যয় নেমে এসেছে। প্রয়োজনীয় চাপের অভাবে কারখানাগুলোতে উৎপাদন প্রায় বন্ধের মুখে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জাতীয় রপ্তানি আয়ে। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, সংকটের কারণে ইতোমধ্যে গড়ে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক পরিমাণ দাঁড়াবে দেড় থেকে প্রায় দুই মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি।
গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় কারখানা পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন পোশাক ও বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তারা। অনেক প্রতিষ্ঠানে দৈনিক ধারণক্ষমতার অর্ধেকেরও কম উৎপাদন হচ্ছে। ফলে সময়মতো ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছানো বা নতুন আদেশ গ্রহণ করা প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
উৎপাদন স্থবির হয়ে পড়ায় সবচেয়ে বড় শঙ্কায় পড়েছেন সাধারণ শ্রমিকরা। কারখানা সচল রাখতে না পারায় মালিক পক্ষ সময়মতো শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে। নিয়মিত লোকসানের মুখে অনেক ছোট ও মাঝারি কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে, যা শিল্পখাতে বড় ধরনের অসন্তোষ ও সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি করছে।
ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো দ্রুত শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ বাড়ানো এবং স্পট মার্কেট থেকে অতিরিক্ত এলএনজি আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ স্বাভাবিক করার জোর দাবি জানিয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশ তার বড় ধরনের রপ্তানি বাজার ও বিশ্বস্ততা হারাতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
একটি উত্তর দিন