রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী রমনা কালী মন্দিরে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর স্বর্ণ চুরির ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) শাহবাগ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত মূল অভিযুক্ত দম্পতিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— লিপি কর্মকার (২৯), তার স্বামী অর্ণব রায় দীপ্ত (৩০) এবং চোরাই স্বর্ণ ক্রেতা ও জুয়েলার্স দোকানের মালিক মো. মুহিন (৩৭)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর সকাল পৌনে নয়টা থেকে বিকেল চারটার মধ্যে যেকোনো সময় শাহবাগ থানাধীন রমনা কালী মন্দিরে অজ্ঞাতনামা চোর চক্র প্রবেশ করে। এ সময় তারা মন্দিরের মা কালী বিগ্রহের জিভে থাকা আনুমানিক ৬ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের টুকরো চুরি করে নিয়ে যায়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৮০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় মন্দিরের পুরোহিত সুজিত চক্রবর্তী বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীদের শনাক্ত করে পুলিশ। পরবর্তীতে উত্তরখান থানার দোবাদিয়া এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত অর্ণব রায় ও লিপি কর্মকার দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা চুরির কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণখান এলাকার ‘সাদিয়া জুয়েলার্স’-এর মালিক মো. মুহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে রমনা কালী মন্দির থেকে চুরি যাওয়া স্বর্ণ গলানো অবস্থায় ২ আনা ১ রতি ৪ পয়েন্ট স্বর্ণের পাত উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এই দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন মন্দিরে ঘুরে ঘুরে প্রতিমার গায়ের স্বর্ণালংকার চুরি করতেন। গত ১৩ সেপ্টেম্বর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরে সংঘটিত স্বর্ণ চুরির ঘটনায়ও এই দম্পতির সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ওই ঘটনায় রমনা থানায় দায়ের করা মামলার সূত্র ধরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধেশ্বরী মন্দির থেকে চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এই চোর চক্রের সাথে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না এবং তাদের অন্য কোনো অপরাধের ইতিহাস রয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
একটি উত্তর দিন