গাজীপুরের টঙ্গী শিল্প এলাকার স্কুইব রোডে (চেরাগ আলী এলাকা) ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর কারখানাটির ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিট-২ এর সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে কারখানা কর্তৃপক্ষের জারি করা এক নোটিশের মাধ্যমে বন্ধের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। শিল্প পুলিশ গাজীপুর-২-এর পুলিশ সুপার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যেভাবে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে কারখানাটির ইউনিট-২ এর ভবন থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও কারখানা সূত্রে জানা যায়, ভবনটির চতুর্থ তলা থেকে হঠাৎ ধোঁয়া বের হতে দেখে শ্রমিকরা চিৎকার শুরু করেন। তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি অ্যালার্ম বাজিয়ে কারখানায় থাকা প্রায় ২০০ শ্রমিক নিরাপদে বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।
ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিটের প্রচেষ্টা
আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ফায়ার সার্ভিস, সিভিল ডিফেন্সের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা উদ্ধার কাজে সহায়তায় যোগ দেন। ফায়ার সার্ভিসের মোট ২১টি ইউনিটের টানা সাড়ে তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর (রাত সাড়ে ১০টা) আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা সম্ভব হয়।
ক্ষয়ক্ষতি ও আহতদের খবর
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে কেউ হতাহত না হলেও আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিন সদস্য আহত ও অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে দুজনকে চিকিৎসার জন্য জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। কারখানার ভেতরে থাকা বিপুল পরিমাণ কেমিক্যাল, কাঁচামাল ও উৎপাদন যন্ত্রপাতি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
বন্ধের নোটিশ ও তদন্ত
কারখানার ইনচার্জ কর্তৃক স্বাক্ষরিত নোটিশে জানানো হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারখানাটির কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে কারখানা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ধারণা, ৩-৪ দিনের মধ্যেই সংস্কার কাজ শেষে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট অথবা যান্ত্রিক ত্রুটি থেকে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে। ঘটনার সঠিক কারণ ও সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে তদন্ত পরিচালনা করা হচ্ছে।
একটি উত্তর দিন