রাজধানীর বারিধারায় প্রাইভেটকারের চাপায় নির্মাণ শ্রমিক মেহেদী হাসান মিম নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১৭ বছর বয়সী কিশোরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার শিশু আদালত-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন (মামুন) জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, কিশোর হিসেবে বিবেচনা এবং বাদীপক্ষের সঙ্গে আপসের বিষয়টি উল্লেখ করে আসামিপক্ষ জামিন আবেদন করেছিল। এ সময় মামলার বাদীও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করলে আদালত আবেদনটি খারিজ করে দেন।
কিশোরের পক্ষে জামিনের আবেদন নিয়ে শুনানি করেন ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি খোরশেদ মিয়া আলম। এর আগে গত ৪ অক্টোবরও একই আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছিলেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন ২৪ বছর বয়সী নির্মাণ শ্রমিক মেহেদী হাসান মিম। এ সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন গাড়ির চালকের আসনে থাকা এক কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই রাতেই তাকে চাচার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
মেহেদী হাসানের মৃত্যুর ঘটনায় তার ভাই মোক্তাদীর ইসলাম ২৩ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলায় গাড়িচালক হিসেবে আকাশ মারকের নাম উল্লেখ করা হলেও গাড়ির চালকের আসনে থাকা কিশোরটির নাম ছিল না।
এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে একই দিন ওই কিশোরকে হেফাজতে নেয় গুলশান থানা পুলিশ। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে হাজির করে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরেফীন ইসলাম।
আদালত সেদিন কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে তার জামিনের আবেদন করা হলেও আদালত তা মঞ্জুর করেননি।
একটি উত্তর দিন