প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার জেরে সিলেটে এক পাথর ব্যবসায়ীকে থানায় তুলে দেওয়া এবং পরবর্তীতে তাকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মাধ্যমে পুলিশে সোপর্দ হওয়া ওই ব্যবসায়ীকে প্রায় ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুনরায় সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতাদের জিম্মাতেই মুক্তি দেওয়া হয়।
ঘটনাটি ঘটে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। মুক্ত হওয়া যুবকের নাম জুবায়ের আহমদ, যিনি পেশায় একজন পাথর ব্যবসায়ী।
ঘটনার বিবরণ
জানা যায়, সিলেটের পাথর কোয়ারি ও স্থানীয় ব্যবসায়িক বিষয় নিয়ে জুবায়ের আহমদ তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর একটি ছবিসহ পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, “১২ তারিখ নির্বাচনের পর ১৩ তারিখ সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। অথচ কিছুই ঠিক হলো না। মন্ত্রী মহোদয় আমাদের জীবন কঠিন থেকে কঠিনতম করে দিলেন।”
এই ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর ও সিনিয়র সহসভাপতি শওকত আলী বাবুলসহ স্থানীয় কয়েকজন নেতা জুবায়েরকে থানায় ডেকে এনে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। ঘটনাটি নিয়ে নানা আলোচনা সৃষ্টি হলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে একে ‘আত্মসমর্পণ’ বলে দাবি করে।
জিম্মায় মুক্তি
থানায় প্রায় ১০ ঘণ্টা অবস্থান ও জিজ্ঞাসাবাদের পর মঙ্গলবার রাতে ওই যুবকের বিরুদ্ধে বড় কোনো অপরাধমূলক প্রমাণ না পাওয়ায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে চমকপ্রদ বিষয় হলো, যে নেতারা তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন, সেই উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি শওকত আলী বাবুল ও সহসভাপতি লাল মিয়ার জিম্মাতেই তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. উছমান গনি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সার্বিক বিষয় যাচাই-বাছাই ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জিম্মানামার মাধ্যমে তাকে স্বজন ও স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতিতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
একটি উত্তর দিন