চলমান ইরান সংঘাত ও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান চলাকালে মার্কিন সেনা মৃত্যুর যে সংখ্যা এতদিন পেন্টাগন প্রকাশ করে আসছিল, মূল সংখ্যাটি তার চেয়েও বেশি বলে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে মার্কিন দৈনিক দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
আসল সংখ্যা কত?
পেনটাগনের পাবলিক ডাটাবেজ: পেনটাগনের ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম (DCAS) ডাটাবেজের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী সংঘাত ও মধ্যপ্রাচ্য মোতায়েন সম্পর্কিত মার্কিন সেনা মৃত্যুর সংখ্যা ১৮ জন।
ওয়াশিংটন পোস্টের দাবি: পেন্টাগনের ক্যাজুয়ালটি ট্র্যাকিং ব্যবস্থার সাথে যুক্ত পাঁচ কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতের সংখ্যা অন্তত ২২ জন—যা পেনটাগনের প্রকাশিত সংখ্যার চেয়ে ৪ জন বেশি।
অন্যান্য মার্কিন তথ্য: অপর এক মার্কিন কর্মকর্তা নিহতের সংখ্যা ২৩ জন বলে দাবি করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে এই তালিকায় যুদ্ধের সরাসরি সংঘাত ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা সেনাও রয়েছেন। এছাড়া সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ওই অঞ্চলে অন্তত ৩ জন মার্কিন বেসামরিক কন্ট্রাক্টরও নিহত হয়েছেন।
আহতের সংখ্যা: রিপোর্ট অনুযায়ী, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৮২০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের একটি বড় অংশ ‘ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরি’ (TBI)-তে ভুগছেন।
পেন্টাগনের কড়া অস্বীকার
ওয়াশিংটন পোস্টের এই প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি প্রতিবেদনটিকে “সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং সাজানো” (Complete LIE) বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি ওয়াশিংটন পোস্টের সমালোচনা করে বলেন, তারা সাধারণ পেশাদারিত্বের সীমারেখাও লঙ্ঘন করেছে।
তথ্যের গুরুত্ব
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিধিমালার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সেনা সদস্যের মৃত্যু সরকারি রেকর্ডে কীভাবে নথিভুক্ত হচ্ছে (ডিউটি চলাকালীন মৃত্যু নাকি অন্যান্য কারণ) তার ওপর ভিত্তি করে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও সরকারি সুবিধা প্রদান করা হয়। ফলে সরকারি তালিকায় এই অসঙ্গতি নিয়ে মার্কিন রাজনৈতিক মহলেও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হচ্ছে।
একটি উত্তর দিন