সংবেদনশীল তথ্য ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে তিনজন গবেষককে চাকরিচ্যুত করেছে মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের মধ্যে অন্তত দুজন এআই নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
বার্তাসংস্থা বিবিসিকে দেওয়া এক বক্তব্যে ওপেনএআইয়ের এক মুখপাত্র জানান, অভ্যন্তরীণ তদন্তে ওই তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নির্ধারিত ব্যবস্থার বাইরে সংবেদনশীল তথ্য পরিচালনার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এতে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নীতিমালা লঙ্ঘনের পাশাপাশি পেশাগত আস্থাও ক্ষুণ্ন হয়েছে। তবে ছাঁটাই করা গবেষকদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। বিবিসি উল্লেখ করেছে, নিরাপত্তা নিয়ে সোচ্চার হওয়ার কারণে নয়, বরং তথ্যের অপব্যবহার ও ভুল ব্যবস্থাপনার কারণেই তাদের বিরুদ্ধে এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এমন এক সময়ে এই ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটল, যখন এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক তুঙ্গে। সম্প্রতি ওপেনএআইয়ের স্বয়ংক্রিয় এআই ‘এজেন্ট’ ব্যবস্থাগুলোর অননুমোদিত কার্যক্রম নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্ঠানটির কিছু এআই মডেল অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে অস্ট্রেলিয়া সরকারের ওয়েবসাইটসহ বেশ কিছু প্ল্যাটফর্মে হ্যাকিং সদৃশ কার্যক্রম চালিয়েছে। এর আগে একটি এআই ব্যবস্থা ইন্টারনেটে প্রবেশ করে জনপ্রিয় ওপেন সোর্স প্ল্যাটফর্ম ‘হাগিং ফেস’-এ প্রবেশ করার পর বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করে ওপেনএআই।
চলতি সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে যে এ ধরনের অননুমোদিত এআই কার্যক্রমের ঘটনায় তারা ১০০টিরও বেশি সংস্থাকে অবহিত করেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর গোপন তথ্য চুরি হয়েছে বা তাদের সার্বিক ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এআই প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত গতি নিয়ে গবেষকদের উদ্বেগও দিন দিন বাড়ছে। সেপ্টেম্বরে আরেক শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক থেকে পদত্যাগ করা গবেষক জ্যাকব কক্সন প্রযুক্তিটির ঝুঁকি মূল্যায়নে এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই এবং ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানও নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করেছেন।
এই উদ্বেগের মধ্যেই মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক, এনভিডিয়া, স্পেসএক্স, মেটা ও গুগলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে এক বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে ট্রাম্প একটি ‘নৈতিকভাবে বাধ্যবাধকতাযুক্ত’ চুক্তি প্রকাশ করে দাবি করেন, এটি এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে সুরক্ষার কার্যকর কাঠামো হিসেবে কাজ করবে। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ এই উদ্যোগের সমালোচনা করে বলেছেন, এই প্রক্রিয়ায় এআই কোম্পানিগুলোকে নিজেদের স্বায়ত্তশাসন বা নিজেরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুরু থেকেই এআই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকিকে খুব একটা বড় করে দেখতে নারাজ, যা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
একটি উত্তর দিন