জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিতর্কিত ভূমিকা এবং পরবর্তী সময়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিতিসহ নানা অভিযোগে বাংলাদেশ পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার ১৪৭ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ‘জনস্বার্থে’ বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।
জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপস্থাপিত এক প্রতিবেদনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য প্রকাশ করে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে উঠে আসা মূল তথ্য:
বাধ্যতামূলক অবসর: সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) থেকে তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার মোট ১৪৭ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
কর্মস্থলে অনুপস্থিত ও পলাতক: ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণে বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ৬২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৩১ জনকে ইতোমধ্যে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং বাকি ৩১ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম চলছে।
সাময়িক বরখাস্ত: ৫ আগস্টের পর অনুপস্থিত বা পলাতক থাকার অভিযোগে এএসপি ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের ৫৭ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিভাগীয় মামলা শেষে তাদের মধ্যে ২৮ জনকে বরখাস্ত ও ১ জনকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়।
ট্রাইব্যুনাল ও ফৌজদারি মামলা: অপরাধ ও ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেপ্তার ২৯ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে (যার মধ্যে ২ জন ডিআইজি-কে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে)। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের ভিত্তিতে ১৩ কর্মকর্তার মধ্যে ৫ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
পুলিশ পরিদর্শক (ইনস্পেক্টর): পুলিশ পরিদর্শক পদমর্যাদার ৫ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, ৩০ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা চলছে এবং ৭৩ জন পরিদর্শককে জনস্বার্থে অবসরে পাঠানো হয়েছে।
সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থিত সদস্যরা বিতর্কিত কর্মকর্তাদের দায়িত্বে পুনর্বহাল বা পদায়ন নিয়ে উদ্বেগ জানান এবং গুম কমিশন ও তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।
একটি উত্তর দিন