সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ও দুর্ঘটনা হ্রাসে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী জানিয়েছেন, কোনো নীতিমালার বাইরে সড়ক-মহাসড়কে রিকশা বা ঝুঁকিপূর্ণ কোনো যানবাহন চলতে দেওয়া হবে না, তবে চালকদের জীবিকা ও যাত্রীসাধারণের সুবিধা বিবেচনায় এনে একটি যুগোপযোগী কাঠামোর মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।
মন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা একটি বড় পরিবহন মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু অনুমোদনহীন ডিজাইন, অনিয়ন্ত্রিত গতি এবং হাইওয়ে বা প্রধান সড়কে চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে আলোচনা করে একটি চূড়ান্ত নীতিমালা তৈরি করছে।
নতুন নীতিমালার সম্ভাব্য দিকসমূহ:
নির্ধারিত রুট: জাতীয় মহাসড়ক (হাইওয়ে) এবং ব্যস্ত প্রধান সড়কে অটোরিকশা চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এগুলো কেবল ফিডার রোড বা এলাকার ভেতরের সড়কে চলাচলের অনুমতি পাবে।
যানবাহনের মান ও ডিজাইন নিয়ন্ত্রণ: অনিরাপদ ও কারিগরি ত্রুটিযুক্ত অটোরিকশা বন্ধ করে নির্দিষ্ট মানদণ্ড ও নিরাপদ ডিজাইনের অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।
নিবন্ধন ও লাইসেন্স: স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রতিটি যানবাহনের নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) এবং চালকদের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হবে।
গতির সীমাবদ্ধতা: দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে এসব যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট গতিসীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।
সড়কমন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা কারো রুজি-রোটি বন্ধ করতে চাই না, তবে সড়কের নিরাপত্তা সর্বাগ্রে। ফিডার রোড বা সার্ভিস লেনে যেন চালকরা নিরাপদে গাড়ি চালাতে পারেন এবং মূল সড়কে যানজট না তৈরি হয়—সে বিষয়টিই এই নীতিমালায় প্রাধান্য পাবে।”
খুব শীঘ্রই নীতিমালার খসড়া অনুমোদন শেষে বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। আইন অমান্য করে মহাসড়কে অটোরিকশা নামালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন মন্ত্রী।
একটি উত্তর দিন