ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী নয়াদিল্লি। শনিবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া একবার্তায় সরাসরি তোপ দাগেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে।
রাহুল গান্ধী স্পষ্ট ভাষায় জানান, “জ্ঞানেশ কুমারকে যেতেই হবে। এই সরকারকেও যেতে হবে। এর পরেই শুরু হবে গণতন্ত্রের মেরামত।”
সংবাদের পটভূমি ও ঘটনার বিবরণ
’ভোট চুরি’ ও SIR বিতর্ক: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR প্রক্রিয়া) এবং নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে সরব। রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা হারিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোদি সরকারকে সহায়তা করছেন।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ: বিরোধীদের ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ নিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন। রাহুল গান্ধীর দাবি, রাষ্ট্রপতি তাঁদের তোলা অভিযোগ উড়িয়ে দেননি, বরং প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
রাজপথে বিক্ষোভ ও আটক: গত কয়েক দিন ধরে দিল্লির রাজপথে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সাংসদ ও নেতা-কর্মীরা লাগাতার আন্দোলন চালাচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে কয়েক দফায় আটক করা হয়।
রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা: ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তর অভিমুখী বড় ধরনের বিক্ষোভ প্রতিহত করতে দিল্লির একাধিক মেট্রো স্টেশন সাময়িক বন্ধ করা হয় এবং কড়া নিরাপত্তা জারি করা হয়।
বিরোধীরা জানিয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে নিরপেক্ষ ব্যক্তিত্ব না আসা পর্যন্ত এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
একটি উত্তর দিন