সরকারি সুবিধাভোগী জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ৫ টন চাল চুরির অভিযোগে এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগের সততা মেলায় স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
ঘটনার বিবরণ
উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সরকার ঘোষিত জাটকা সংরক্ষণ ও প্রজনন মৌসুমে নিবন্ধিত জেলেদের জীবনযাত্রার নির্বাহের জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে বিশেষ ভিজিএফ (VGF) চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। চাল বিতরণের দায়িত্বে থাকা ওই ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইউনিয়ন পরিষদের গুদাম থেকে জেলেদের না দিয়ে গোপনে আনুমানিক ৫ টন (৫,০০০ কেজি) চাল অন্যত্র সরিয়ে ও কালোবাজারে বিক্রি করে দেন বলে স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ ওঠে।
তদন্ত ও ব্যবস্থা
জেলেদের পাওনা চাল না পাওয়া এবং চাল আত্মসাতের বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় জেলেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। অভিযোগের ভিত্তিতে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি সরজমিনে গুদাম পরিদর্শন এবং জেলেদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ শেষে চাল চুরির ঘটনার সত্যতা পায়।
তদন্ত প্রতিবেদনে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার বিভাগ (ইউপি শাখা) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে তার পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে। একই সাথে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
কর্মকর্তাদের বক্তব্য
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, “সরকারি সহায়তা নিয়ে যেকোনো ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের বরদাশত করা হবে না। জেলেদের চাল চুরির পেছনে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না তা অনুসন্ধানে বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হচ্ছে।”
স্থানীয় জেলেরা এ সিদ্ধান্তে স্বস্তি প্রকাশ করে অবিলম্বে চাল উদ্ধার করে তাদের মধ্যে সঠিকভাবে বন্টন করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
একটি উত্তর দিন