আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে যোগ দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর অগ্রযাত্রা ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গির বার্তা নিয়ে এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশগ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। অধিবেশন চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের জোর সম্ভাবনা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত করেন:
যুক্তরাষ্ট্র ও বোয়িং চুক্তি: আমেরিকা থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, কোনো বাহ্যিক চাপে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বাংলাদেশের নিজস্ব প্রয়োজন ও চাহিদার ভিত্তিতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং সামনে চাহিদা অনুযায়ী এভিয়েশন খাতের আরও উন্নয়ন করা হবে।
ভারত সফর ও সম্পর্ক: প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে জাতিসংঘের অধিবেশনের আগে এই সফর হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক নানাবিধ চ্যালেঞ্জ ও সমস্যা থাকলেও আলোচনার দরজা সবসময় খোলা থাকবে এবং প্রতিবেশী হিসেবে সুসম্পর্ক বজায় রাখাই সরকারের লক্ষ্য।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: এই চুক্তিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভূক্তি বা আলোচনাকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ এবং কৌশলগত অবস্থান বজায় রেখে বিশ্বের যেকোনো শান্তি ও নিরাপত্তা জোটে বাংলাদেশ যুক্ত হতে পারে।
শ্রমবাজার ও অন্যান্য বিষয়: মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রপ্তানিতে আগের সরকারের আমলের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন। এখন থেকে ধাপে ধাপে ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানো সম্ভব হবে।
জাতিসংঘ অধিবেশনে এই সফর এবং বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলো আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মর্যাদা ও কৌশলগত গুরুত্ব আরও জোরদার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একটি উত্তর দিন