বিগত শাসন আমলে রাজনীতি, প্রশাসন এবং গণমাধ্যমে যারা তোষামোদ ও চাটুকারিতার মাধ্যমে ক্ষমতার সুবিধা গ্রহণ করেছিলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাঁদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন সেক্টরে চাটুকারিতার সংস্কৃতি বন্ধ করা এবং স্বচ্ছতা ফেরানোর লক্ষ্যে সরকারের এ পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে সর্বমহলে।
এ বিষয়ে নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সমসাময়িক রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহিদুল ইসলাম। সরকারের এই ভূমিকা ও চাটুকারিতা সংস্কৃতি নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি নিচে তুলে ধরা হলো:
চাটুকারিতা ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে জাহিদুল ইসলামের মূল বক্তব্য
আমলাতন্ত্র ও তোষামোদের সংস্কৃতি রোধ: জাহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার অন্যতম বড় বিপর্যয় তৈরি করেছিল আমলাতন্ত্রের একশ্রেণী এবং গণমাধ্যমের চাটুকার সিন্ডিকেট। চাটুকারদের অতিরিক্ত তোষামোদের কারণে তৎকালীন সরকার বাস্তব চিত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল।
সরকারের কঠোর অবস্থানকে স্বাগত: সরকারের পক্ষ থেকে এসব তোষামোদকারী ও অনৈতিক সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তাকে সময়োপযোগী বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, কোনো দেশ বা জাতিকে ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি থেকে বাঁচাতে হলে এই তোষামোদের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া জরুরি।
বিচারের আওতায় আনার দাবি: তিনি মন্তব্য করেন, কেবল পদ থেকে সরানো বা খোঁজার মধ্যেই যেন সরকারের কাজ সীমাবদ্ধ না থাকে। যেসব হলুদ সাংবাদিক, সুবিধাবাদী আমলা এবং রাজনৈতিক চাটুকার সাধারণ মানুষের অধিকার হরণ ও স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করেছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের সুনির্দিষ্ট আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
চাটুকারিতার নেতিবাচক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা
জাহিদুল ইসলামের বিশ্লেষণে উঠে আসে:
জনগণের অধিকার হরণ: চাটুকারেরা সত্যকে গোপন করে মিথ্যাকে সত্য হিসেবে তুলে ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার সহজ করে দেয়।
তরুণ ও শিক্ষার্থীদের স্বাধীন চিন্তার পরিবেশ: রাষ্ট্র পরিচালনায় চাটুকারিতার পরিবর্তে প্রশ্ন তোলার সংস্কৃতি এবং যুক্তিযুক্ত সমালোচনার পরিবেশ তৈরির ওপর তিনি জোর দেন।
একটি উত্তর দিন