দেশের অভ্যন্তরীণ টেক্সটাইল বাজারের বড় যোগানদাতা নরসিংদীর শিল্পাঞ্চলগুলোতে তীব্র গ্যাস সংকটে উৎপাদন কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। শিল্পকারখানা বাঁচাতে এবং উৎপাদন আংশিক সচল রাখতে বাধ্য হয়ে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কাঠ পোড়াচ্ছেন মালিকেরা।
দেশের পোশাক ও কাপড়ের মোট চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ যোগান আসে নরসিংদী এলাকা থেকে। তবে বেশ কিছু দিন ধরে গ্যাস সরবরাহ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ায় এবং বহু কারখানায় গ্যাসের প্রেসার প্রায় শূন্যে পৌঁছানোয় উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে অন্তত শতাধিক ছোট-বড় টেক্সটাইল, ডাইং ও সাইজিং কারখানা তাদের স্টিম বয়লারে জুট বা ঝুটের বদলে জ্বালানি হিসেবে অবাধে কাঠ ব্যবহার শুরু করেছে। শেখেরচর ও মাধবদী শিল্পাঞ্চলের নন-গ্যাস বয়লারচালিত কারখানাগুলোতেই প্রতিদিন টন কে টন কাঠ পোড়ানো হচ্ছে।
সংকটের প্রভাব ও পরিবেশের ঝুঁকি:
বিপুল আর্থিক ক্ষতি: গ্যাস সংকটে নরসিংদী ও মাধবদীর প্রায় ৮০ শতাংশ কারখানা পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ। ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, প্রতিদিন এখানে প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার বিপুল আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
পরিবেশ ও বনজ সম্পদ হুমকি: অনিয়ন্ত্রিতভাবে কাঠ পোড়ানোর ফলে বনজ সম্পদ উজাড়ের পাশাপাশি স্থানীয় জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে।
শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা: কারখানাগুলোতে উৎপাদন স্থবির হয়ে পড়ায় একদিকে ক্রেতাদের অর্ডার বাতিল হচ্ছে, অন্যদিকে মাসশেষে শ্রমিকদের মজুরি ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় বয়লার পরিদর্শকদের তথ্যমতে, শিল্প টিকিয়ে রাখার তাগিদে এই বিকল্প পথ বেছে নেওয়া হলেও এটি দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। কারখানা মালিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অবিলম্বে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করে শিল্পখাত ও পরিবেশকে এই বড় বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
একটি উত্তর দিন