কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নতুন কমিটি গঠন ও শীর্ষ পদ নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে দলটির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় নগরীর মোগলটুলী এলাকার ফারুকী হাউজিংয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এই উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
দলীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের নতুন কমিটি গঠন এবং আমির নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরে শীর্ষ নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ চলে আসছিল। বুধবার সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাছুমের উপস্থিতিতে ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা ও রুকনদের নিয়ে একটি বৈঠক চলছিল। ওই বৈঠকে মহানগর জামায়াতের বর্তমান সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান নতুন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে পারেন—এমন আলোচনাকে কেন্দ্র করে বিরোধ প্রকাশ্যে আসে।
ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ
বৈঠক চলাকালে কার্যালয়ের বাইরে একদল নেতাকর্মী জড়о হয়ে হট্টগোল শুরু করেন। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ কর্মীরা কার্যালয় চত্বরে প্রবেশ করে মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর করেন। এ সময় দলীয় কার্যালয়ের ছাদ ও চত্বরে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যার ফলে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা
খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
দলের বক্তব্য
এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, জামায়াতের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও হট্টগোলের খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং কেউ লিখিত অভিযোগও দেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনার পরে মহানগর জামায়াতের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়, পূর্বনির্ধারিত সভা চলাকালে কিছু যুবক প্রোগ্রামে ঢুকে হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং চলে যাওয়ার সময় একটি গাড়ি ভাঙচুর করে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একটি উত্তর দিন