রাজধানীতে যানজট নিরসন ও গণপরিবহন ব্যবস্থায় গতি আনার লক্ষ্যে নেওয়া মেট্রোরেলের নতুন রুট নির্মাণ প্রকল্পের সার্বিক ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাই ও মূল প্রাক্কলনের তুলনায় নকশা পরিবর্তন, জমি অধিগ্রহণ খরচ বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার হারের তারতম্য এবং নির্মাণ সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধিকে এই বড় ধরনের ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ব্যয় বৃদ্ধি ও প্রকল্পের সার্বিক চিত্র
প্রাক্কলিত ব্যয়ের আমূল পরিবর্তন: উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিম সংযোগকারী নতুন এই মেট্রোরেল লাইনের প্রাথমিক বাজেটের তুলনায় বর্তমান সংশোধিত বাজেটে মোট ব্যয় দ্বিগুণ ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ: শহরের ঘিঞ্জি ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় রুট পরিবর্তনের কারণে জমি অধিগ্রহণ বাবদ অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখতে হচ্ছে, যা মোট বাজেটের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে।
ডলারের বিনিময় হার ও আন্তর্জাতিক সামগ্রী: ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানি করা প্রযুক্তিগত যন্ত্রাংশের দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সংশোধন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
মেয়াদ বৃদ্ধির শঙ্কা: ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রকল্পের মূল বাস্তবায়ন কাজ শেষ করার সময়সীমাও আগের ঘোষিত মেয়াদের চেয়ে অন্তত দুই থেকে তিন বছর পিছিয়ে যেতে পারে।
পরিকল্পনা কমিশন এবং ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)-এর সূত্র অনুযায়ী, প্রকল্পটির সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) চূড়ান্ত পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। সংশোধিত প্রস্তাবটি একনেক (ECNEC) সভায় অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়মতো সিদ্ধান্ত না নেওয়া এবং প্রাথমিক সমীক্ষার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রায়শই খরচ এমন অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়ে। নগরবাসীর সুফল নিশ্চিত করতে সঠিক তদারকি ও দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর তারা জোর দিচ্ছেন।
Leave a Reply