ভারতে টানা প্রবল বর্ষণ ও মৌসুমি বৃষ্টির তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড জনজীবন। দেশটির দিল্লি-এনসিআর, গুরুগ্রাম, গাজিয়াবাদসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের প্রধান সড়কগুলো এখন পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সড়কগুলো হ্রদ বা নদীতে পরিণত হওয়ায় তীব্র জলজট তৈরি হয়েছে এবং বহু গাড়ি পানির তোড়ে বিকল হয়ে মাঝরাস্তায় আটকে পড়েছে।
পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, শত শত চালক বাধ্য হয়ে নিজেদের মূল্যবান গাড়ি ও যানবাহন রাজপথের পানিতে ভাসমান অবস্থাতেই ফেলে রেখে নিরাপদ আশ্রয়ে বা হেঁটে গন্তব্যে চলে গেছেন।
* জলমগ্ন রাজপথ: দিল্লির মহিপালপুর ফ্লাইওভার, জখিরা আন্ডারপাসসহ গুরুগ্রামের গল্ফ কোর্স রোড ও জাতীয় মহাসড়ক (NH-48) হাঁটুজলে ডুবে গেছে। পানির গভীরতা এতোটাই বেশি যে ছোট-বড় অনেক গাড়ি ও বাস সম্পূর্ণ আটকে যায়।
* গাড়ি ছেড়ে পালিয়ে রক্ষা: গুরুগ্রাম ও দিল্লির বিভিন্ন ব্যস্ততম সড়কে পানি ইঞ্জিন পর্যন্ত ঢুকে যাওয়ায় গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে। দীর্ঘ ঘণ্টা আটকে থাকার পর অনেক চালক গাড়ি রাস্তায় ফেলে রেখে হেঁটে বা বিকল্প উপায়ে এলাকা ত্যাগ করেন।
* যানজট ও বিমান চলাচলে ব্যাঘাত: প্রধান সড়কগুলোতে দীর্ঘ চার-পাঁচ কিলোমিটার জুড়ে মারাত্মক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ভারী বৃষ্টির জেরে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় দিল্লির একাধিক ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে ডাইভার্ট করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
* পৌর কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ক্ষোভ: সাধারণ নাগরিক ও চালকরা বলছেন, মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই নিকাশি ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা উন্মোচিত হয়েছে। বহু এলাকায় জল সরাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাম্প বসানো হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগছে।
আবহাওয়া দফতর (IMD) গুরুগ্রাম, ফরিদাবাদসহ বেশ কিছু অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি রেখেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষকে রাস্তায় না বের হওয়ার এবং জলমগ্ন সড়কগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশ।
Leave a Reply