প্রতিবেদন: হংকংয়ের তরুণী মডেল, ফ্যাশন আইকন ও ইনফ্লুয়েন্সার অ্যাবি চোই (২৮) হত্যা মামলার ওপর হাইকোর্টে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ফ্ল্যাটের মালিকানা কেন্দ্রিক অর্থলোভ ও আক্রোশ থেকেই সাবেক শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা অত্যন্ত পরিকল্পিত ও নৃশংসভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে আদালতে অভিযোগ তুলেছে সরকারপক্ষ।
ফ্ল্যাট নিয়ে বিবাদ ও হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য আদালতের নথি ও প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে হো মান তিন এলাকায় প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ হংকং ডলার মূল্যের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কেনেন অ্যাবি। স্ট্যাম্প ডিউটি এড়াতে সেটি কৌশলগতভাবে সাবেক শ্বশুর কাও কুয়াংয়ের নামে নিবন্ধন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২২ সালে অ্যাবি সম্পত্তিটি বিক্রি করে দেওয়ার উদ্যোগ নিলে সাবেক শ্বশুরের সঙ্গে দূরত্ব ও বিরোধের সৃষ্টি হয়। কাও কুয়াং যেন ফ্ল্যাটের মালিকানা না হারান, সেই আক্রোশ থেকে নিজের দুই ছেলেকে (অ্যাবির সাবেক স্বামী অ্যালেক্স কুয়াং ও সাবেক দেবর অ্যান্থনি কুয়াং) সঙ্গে নিয়ে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের ছক আঁকেন।
আদালতে পেশ করা অডিও ও আর্থিক সম্পর্ক শুনানি চলাকালে বিচারক ও জুরিবোর্ডের সামনে অ্যাবির কিছু ব্যক্তিগত অডিও বার্তা শোনানো হয়। অডিওতে নিজের সাবেক শ্বশুরবাড়ির লোকজনের প্রতি অকৃত্রিম আর্থিক সহায়তার কথা উল্লেখ করে তাদের অকৃতজ্ঞ আচরণের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেছিলেন অ্যাবি। প্রসিকিউশন থেকে জানানো হয়, অ্যাবির নিজ পরিবার এবং তার দ্বিতীয় জীবনসঙ্গীর পরিবার অত্যন্ত অর্থশালী হলেও কুয়াং পরিবার সচ্ছল ছিল না। এই অর্থনৈতিক বৈষম্য ও লোভি মানসিকতাই এমন মর্মান্তিক অপরাধের মূল কারণ।
কসাইখানায় পরিণত করা ফ্ল্যাট ও নৃশংসতার চিত্র ২০২৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ হন অ্যাবি চোই। তিন দিন পর তাই পো এলাকার একটি ভাড়া করা ফ্ল্যাট থেকে তাঁর দেহাংশের সন্ধান পায় পুলিশ। ফ্ল্যাটটি যেন একটি অস্থায়ী কসাইখানায় রূপান্তর করা হয়েছিল। দেয়াল পলিথিনে ঢেকে, ফেস শিল্ড ও রেইনকোট পরে ইলেকট্রিক করাত ও মিট স্লাইসার দিয়ে তাঁর দেহ খণ্ডবিখণ্ড করা হয়। রান্নাঘরের একটি বড় পাত্রে সবজির সঙ্গে তাঁর সেদ্ধ করা মাথার খুলি এবং ফ্রিজ থেকে বিচ্ছিন্ন দুটি পা উদ্ধার করেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বিচারপ্রক্রিয়া ও বর্তমান অবস্থা আদালতে অভিযুক্ত তিন আসামি—সাবেক শ্বশুর কাও কুয়াং, সাবেক স্বামী অ্যালেক্স কুয়াং এবং সাবেক দেবর অ্যান্থনি কুয়াং নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। তবে প্রসিকিউটর স্পষ্ট করেছেন, পুরো পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন দলবদ্ধভাবে করা হয়েছে, তাই অপরাধের মূল দায় প্রত্যেকের ওপর সমানভাবে প্রযোজ্য। আট সপ্তাহব্যাপী চলতে থাকা এই বহুল আলোচিত বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রসিকিউশনের পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের কাজ অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply