গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেও ইসরায়েলি হামলা ও গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। বুধবার বিভিন্ন এলাকায় হামলায় সাংবাদিকসহ অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩১ জন। নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গাজা সিটির দক্ষিণ-পশ্চিমে তাল আল-হাওয়া এলাকায় একটি যাত্রীবাহী ভ্যানে ড্রোন হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কর্মীরা হামলায় আহত ১৩ জনকে আল-কুদস হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
আল জাজিরার সাংবাদিক হিন্দ খুদারি জানিয়েছেন, আহতদের কয়েকজনকে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে চিকিৎসকরা আশঙ্কা করছেন। দীর্ঘদিনের হামলা ও অবরোধে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আহতদের চিকিৎসা দিতে হাসপাতালগুলোকে বড় সংকটের মুখে পড়তে হচ্ছে।
এর আগে গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের কাছে একটি আবাসিক ভবনে হামলায় অন্তত একজন নারী নিহত হন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা।
দক্ষিণ গাজায় বাস্তুচ্যুতদের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে ড্রোন হামলায় দুই শিশুসহ চারজন আহত হয়েছেন। মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহে দুজন গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। খান ইউনিসেও ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের খবর এসেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে অন্তত নয়টি মরদেহ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আটজন হামলায় নিহত হয়েছেন। অপর একজন নারী আগের আঘাতের কারণে মারা যান।
তথাকথিত যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে গাজায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১ হাজার ৪৩১ জনে। এ সময়ে আহত হয়েছেন ৫ হাজার ২২৬ জন। শুধু গত এক দিনেই আহত হয়েছেন ৩১ জন।
হিন্দ খুদারি বলেন, যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলি বাহিনীর সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। হামলা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে গাজার মানুষের দৈনন্দিন জীবনও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৪ হাজার ৩২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৪২ জন।
এই সময়ে নিহত সাংবাদিকের সংখ্যা অন্তত ২৬৩ জন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য।
জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টারের আগস্টের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজাজুড়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপনার সংখ্যা ৯ শতাংশ বেড়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
দীর্ঘস্থায়ী হামলা, অবরোধ ও অবকাঠামোগত ধ্বংসের কারণে গাজার স্বাস্থ্য ও মানবিক পরিস্থিতি ক্রমেই সংকটপূর্ণ হয়ে উঠছে।
Leave a Reply