মিয়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর জান্তা সরকারের কাছে গ্রাহকদের স্পর্শকাতর তথ্য হস্তান্তর এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তার অভিযোগে নরওয়ের বহুজাতিক টেলিকম প্রতিষ্ঠান টেলিনর এএসএ (Telenor ASA)-এর বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে নরওয়ে পুলিশ। একই সাথে নরওয়ের অপরাধ তদন্ত সংস্থা ও জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (PST) ওসলোতে অবস্থিত টেলিনরের সদর দফতরে অভিযান চালিয়েছে।
মূল অভিযোগসমূহ
গ্রাহকদের ডাটা হস্তান্তর: সামরিক অভ্যুত্থানের পর জান্তা সরকারের দাবির মুখে টেলিনর মিয়ানমার প্রায় ১,২৫৩ জন গ্রাহকের ফোন কলের তথ্য, অবস্থান (লোকেশন ডাটা) এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য হস্তান্তর করে। এই তথ্যের ভিত্তিতে জান্তা বাহিনী বিরোধীদের ওপর নজরদারি, গ্রেপ্তার ও নির্যাতন চালায়।
প্রভাবশালী অ্যাক্টিভিস্টের মৃত্যুদণ্ড: অভিযোগ রয়েছে, টেলিনরের দেওয়া কলের তথ্য ও অবস্থানের সূত্র ধরে মিয়ানমারের প্রখ্যাত র্যাপার ও সাবেক আইনপ্রণেতা জেয়া থ’কে গ্রেপ্তার করা হয়, যাকে পরবর্তীতে মৃত্যুদণ্ড দেয় জান্তা সরকার।
নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন: ২০২২ সালের মার্চে টেলিনর মিয়ানমার থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার সময় নিষেধাজ্ঞাভুক্ত পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি (Surveillance Equipment) হস্তান্তর করার মাধ্যমে দেশটির ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।
টেলিনরের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে টেলিনর জানিয়েছে, তারা তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছে। প্রতিষ্ঠানের মিডিয়া রিলেশনস ডিরেক্টর ডেভিড ফিডজেল্যান্ড জানান, সামরিক অভ্যুত্থানের পর স্থানীয় কর্মীদের প্রাণ বাঁচানোই তাদের মূল অগ্রাধিকার ছিল। জান্তা সরকারের নির্দেশ না মানলে স্থানীয় কর্মীদের কারাদণ্ড, নির্যাতন বা মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে হতো। এমন পরিস্থিতিতে কর্মীদের জীবন ঝুঁকিতে না ফেলে আইন মানা ছাড়া কোনো বিকল্প পথ ছিল না।
আদালতের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ
পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি সম্প্রতি নরওয়ের একটি আদালত ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগীদের পক্ষে টেলিনরের বিরুদ্ধে দায়ের করা এক ক্লাস-অ্যাকশন ল-স্যুট (Class-Action Lawsuit) এগিয়ে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। حقوق সংস্থা ‘জাস্টিস ফর মিয়ানমার’ নরওয়ে পুলিশের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে ভুক্তভোগীদের বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে একে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
Leave a Reply