রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় ফুটপাত ও মার্কেটগুলোর ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা এখন চরম চাঁদাবাজির মুখে দিশেহারা। প্রশাসন পরিবর্তনের পরও চাঁদাবাজ চক্রের রূপ পাল্টালেও কমেনি নীরব নিপীড়ন। রাজনৈতিক প্রভাবশালী, স্থানীয় মাস্তান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যের ছত্রছায়ায় প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা চাঁদা তুলতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।
চাঁদাবাজির কৌশল ও চিত্র
দৈনিক ও সাপ্তাহিক রেট: ফুটপাতের প্রতিটি চৌকি বা ঝুড়িপ্রতি প্রতিদিন ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। স্থায়ী দোকানগুলোর ক্ষেত্রে লাইটিং, পরিচ্ছন্নতা বা ‘নিরাপত্তা’র নামে তোলা হয় মোটা অঙ্কের টাকা।
লাইনম্যান প্রথা: চাঁদাবাজরা সরাসরি না এসে নির্দিষ্ট ‘লাইনম্যান’দের মাধ্যমে টাকা তোলে। টাকা না দিলে মালামাল জব্দ করা, দোকান বসতে না দেওয়া বা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
নতুন সিন্ডিকেটের উত্থান: ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর পুরানো গ্রুপগুলো সাময়িক সরে দাঁড়ালেও স্থান দখল করেছে নতুন প্রভাবশালী চক্র। ফলস্বরূপ ব্যবসায়ীদের শুধু চাঁদা আদায়ের হাতই বদলেছে, মুক্তি মেলেনি।
ব্যবসায়ীদের আর্তনাদ
দৈনন্দিন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও ব্যবসায়ে মন্দার কারণে এমনিতেই পুঁজি টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ওপর এই অতিরিক্ত খেসারত দিতে গিয়ে অনেক ব্যবসায়ী দেনার দায়ে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু প্রকাশ্যে মুখ খুললে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়া বা প্রাণনাশের হুমকি থাকার কারণে নিরুপায় হয়ে নীরব জিম্মি দশা মেনে নিচ্ছেন তারা।
দ্রুত সময়ের মধ্যে ফুটপাত ও বাজারগুলোকে সিন্ডিকেটমুক্ত করে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন ভুক্তভোগী সাধারণ ব্যবসায়ীরা।
Leave a Reply