শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে আগামী কয়েক মাসে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রাজনিত অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা ৪ লাখ ৫১ হাজারে পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছে ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব। গবেষকদের হিসাবে, ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এই অতিরিক্ত প্রাণহানি ঘটতে পারে।
গবেষণায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রাখা হয়েছে দরিদ্র ও উষ্ণ অঞ্চলগুলোকে। আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে প্রায় ৬৬ হাজার ৮০০ জনের অতিরিক্ত মৃত্যু হতে পারে। এছাড়া ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ায় সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৯ হাজার ৪০০, ইন্দোনেশিয়ায় ১৯ হাজার ৩০০, ভারতে ১৫ হাজার ৮০০ এবং ব্রাজিলে ১৩ হাজার ৩০০ অতিরিক্ত মৃত্যুর আশঙ্কা করা হয়েছে।
২৪ হাজারের বেশি অঞ্চলের তাপমাত্রা ও মৃত্যুহারের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই হিসাব করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, এল নিনোর সময়ে স্থলভাগের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিক বছরের তুলনায় প্রায় ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে এবং চরম দাবদাহের দিন বাড়তে পারে ৪৪ শতাংশ।
তাপজনিত মৃত্যু কমাতে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, শীতলীকরণ কেন্দ্র, বিনা মূল্যে পানির ব্যবস্থা, শ্রমিকদের সুরক্ষা, হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের ওপর বাড়তি নজরদারির সুপারিশ করেছেন গবেষকেরা।
গবেষকদের মতে, বর্তমান এল নিনোর তীব্রতা ভবিষ্যতের উষ্ণ পৃথিবীর একটি সম্ভাব্য চিত্র তুলে ধরছে। তাই পরিস্থিতিকে শুধু দুর্যোগ হিসেবে না দেখে আগাম প্রস্তুতি ও জলবায়ু অভিযোজনের সুযোগ হিসেবেও দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
Leave a Reply