জাতীয় সংসদে স্পিকারের পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিরোধী দল। তাদের দাবি, সংসদ পরিচালনায় স্পিকার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হচ্ছেন এবং বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের বক্তব্য প্রদান ও গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় উত্থাপনে ধারাবাহিকভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
সংসদ অধিবেশন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা তাঁদের এই অসন্তোষের কথা তুলে ধরেন।
বিরোধী দলের প্রধান অভিযোগসমূহ:
* বক্তব্যের সময় কর্তন: জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কথা বলতে গেলে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের মাইক দ্রুত বন্ধ করে দেওয়া হয়, যা সরকারি দলের সদস্যদের ক্ষেত্রে দেখা যায় না।
* স্থগিত প্রস্তাব ও নোটিশ প্রত্যাখ্যান: দেশের অর্থনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দলের দেওয়া একাধিক জরুরি নোটিশ ও সিদ্ধান্ত প্রস্তাব গ্রহণ না করে সরাসরি খারিজ করে দেওয়া হচ্ছে।
* একপাক্ষিক সংসদ পরিচালন: স্পিকারের ভূমিকা সংসদের অভিভাবক হিসেবে না হয়ে অনেকটা সরকারি দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের মতো মনে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বিরোধী নেতারা।
বিরোধী দলের চিফ হুইপ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “সংসদ হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষের কথা বলার প্রধান জায়গা। কিন্তু স্পিকারের বর্তমান আচরণে আমরা চরম হতাশ। বিরোধী দলকে কথা বলতে না দিলে এই সংসদের কার্যকরিতা ও গণতন্ত্র চর্চা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।”
তারা অবিলম্বে স্পিকারকে সংসদীয় রীতিনীতি মেনে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সংসদ পরিচালনার আহ্বান জানান। অন্যথায় সংসদ বয়কটসহ কঠোর সংসদীয় পদক্ষেপের নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা।
তবে বিরোধী দলের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সরকারি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্পিকার সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুসরণ করেই অধিবেশন পরিচালনা করছেন।
একটি উত্তর দিন