ঢাকার পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় ট্রাইব্যুনাল আসামিদের মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। ১ মাসের মধ্যে বিচার কার্যকরের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে মাত্র ১৬ দিনে বিচারিক ট্রাইব্যুনালের সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করে গত ৭ জুন ২০২৬ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করা হয়।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত সময়সূচি ও বিচারিক ইতিহাস
* ঘটনা ও গ্রেপ্তার (১৯ মে ২০২৬): পল্লবীর অ্যাপার্টমেন্টে দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী রামিসাকে প্রতিবেশী সোহেল রানা বাথরুমে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন ও হত্যা করে। ঘটনার দিনই প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
* স্বীকারোক্তি ও চার্জশিট (২০-২৪ মে): ২০ মে আদালতে অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় ঘাতক সোহেল। সরকারের নির্দেশে মাত্র ৫ দিনের মাথায় ২৪ মে তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) জমা দেয় পুলিশ।
* দ্রুততম বিচার ও রায় (১-৭ জুন): ১ জুন অভিযোগ গঠন এবং ২ জুন মাত্র এক দিনে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
বর্তমান আইনি অবস্থা (রায় ঘোষণার ২ মাস পর)
* জেল আপিল ও ডেথ রেফারেন্স: বিচারিক ট্রাইব্যুনালে ১ মাসের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হলেও বাংলাদেশের প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC) অনুযায়ী যেকোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হাইকোর্টের অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) বাধ্যতামূলক।
* হাইকোর্টে শুনানি গ্রহণ: দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে জেল আপিল দায়ের করলে গত ১৪ জুন হাইকোর্ট বেঞ্চ তা শুনানির জন্য গ্রহণ করে। বর্তমানে মামলাটি ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির অপেক্ষায় উচ্চ আদালতে প্রক্রিয়াধীন।
একটি উত্তর দিন