কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার নাজিমখান বাজারে বাজার কমিটির জন্য নির্ধারিত একটি সরকারি অফিস দখল করে যুবদলের দলীয় কার্যালয় করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি খাস জায়গায় তৈরি বাজার কমিটির কার্যালয়টির বাইরের দেওয়ালে সম্প্রতি নাজিমখান ইউনিয়ন যুবদলের ব্যানার টাঙানো হয়েছে। ভেতরের কক্ষ দখল করে সেখানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতাদের ছবি ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। বাজার কমিটির জন্য নির্ধারিত আসবাবপত্র ও টেবিল-চেয়ার দলীয় কার্যক্রমে ব্যবহার করা হচ্ছে। অফিসে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালুর পাশাপাশি সেখানে ভুূরিভোজ এবং গানবাজনারও আয়োজন করা হয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। প্রায় এক মাস দখলের পর ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কার্যালয়টির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
নাজিমখান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও পদাধিকারবলে বাজার কমিটির দায়িত্বে থাকা আব্দুল মালেক পাটোয়ারী বলেন, “অফিসটি বাজার কমিটির আওতাধীন হলেও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমার তেমন কিছুই করার নেই।” একই ক্ষোভ প্রকাশ করে বাজারের ইজারাদার মাহফুজা বেগম জানান, এটি বাজার পরিচালনা ও ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য নির্ধারিত ছিল, কোনো রাজনৈতিক দলের দখলের জন্য নয়।
স্থানীয় সাধারণ ব্যবসায়ীদের দাবি, আগে উক্ত স্থানে অন্য রাজনৈতিক দল দাপট দেখালেও এখন দল পরিবর্তনের সাথে সাথে আবার অফিস দখলের মহোৎসব চলছে। যুবদলের নেতাকর্মীদের এই ধরনের আচরণে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির আর কোনো পার্থক্য রইল না বলে মন্তব্য করেন অনেকে। ঘটনাটিকে বিএনপির নিজস্ব আদর্শপরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন নাজিমখান ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক রবিউল আলম বকসী বাদশা।
তবে কার্যালয় দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেননি স্থানীয় যুবদলের নেতারা। নাজিমখান ইউনিয়ন যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম এবং সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম সাজু জানান, “আগে আওয়ামী লীগের লোকজন এটি দখলে রেখেছিল, এখন তারা সরকারি জায়গায় যুবদলের অফিস করেছেন। এতে সমস্যা বা দোষের কিছু দেখছেন না তারা।”
এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদ প্রশাসকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
একটি উত্তর দিন