রংপুরের মাছোয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার নৃশংস ঘটনায় ঘটনার স্থান, সময় এবং নেপথ্য কারণ নিয়ে নতুন তথ্য ও ব্যাখ্যা দিয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার। প্রাথমিক তথ্যের পর তদন্তের ভিত্তিতে এই হত্যাকাণ্ডের নতুন বিবরণ সামনে আনলো পুলিশ।
ঘটনাস্থল ও প্রবেশপথ
পুলিশের নতুন ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত দুজন নিহতদের প্রতিবেশী দেবু নামের এক ব্যক্তির তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর তিনতলা বাড়ির ছাদে প্রবেশ করেন। পূর্বে কেবল অন্য একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে ছাদে ওঠার কথা বলা হলেও, সূক্ষ্ম তদন্তে এই নির্দিষ্ট প্রবেশপথের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
হত্যার সময় ও সময়কাল
হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিল গভীর রাতে। তবে অভিযুক্তরা হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার পরও দীর্ঘসময় ওই বাড়িতেই অবস্থান করেন। তারা রাতভর সেখানে থেকে পরদিন শুক্রবার জুমার নামাজের সময় যখন রাস্তাঘাট ও আশেপাশের এলাকা ফাঁকা হয়, তখন ছাদ ও আশেপাশের পথ ধরে বের হয়ে আত্মগোপনে যান।
নেপথ্য কারণ ও আলামত
পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী, ছাদ থেকে চিৎকার বা কোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের বাধা থেকেই ঘটনার সূত্রপাত।
* অভিযুক্তরা ছাদে ইয়াবা সেবনকালে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী বাধা দিলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
* পরবর্তীতে পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় এবং শোরগোল পেয়ে একে একে এগিয়ে আসা স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং ছোট ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
* আলামত গোপন করতে অভিযুক্তরা নিহতের বাড়ির ফ্রিজ থেকে খাবার খাওয়া, গোসল করা এবং উদ্ধারকৃত দুটি স্মার্টফোন ডিটারজেন্ট মেশানো পানিতে ডুবিয়ে আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করে। ডাকাতির নাটক সাজাতে তারা ঘরের আলমারি ও ড্রয়ার তছনছ করে সোনাদানা নিয়ে চম্পট দেয়।
পুলিশ কমিশনার জানান, প্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেপ্তারকৃত অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত মিলিয়েই হত্যাকাণ্ডের এই নতুন এবং পূর্ণাঙ্গ চিত্রটি পাওয়া গেছে। মামলার দ্রুত চার্জশিট প্রদানের প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
একটি উত্তর দিন