মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নতুন সিন্ডিকেট বা অনিয়মের সুযোগ না দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। অভিবাসন খাতকে সিন্ডিকেটমুক্ত, স্বচ্ছ এবং সাধারণ কর্মীদের জন্য ব্যযসাশ্রয়ী করার লক্ষ্যে এই অবস্থান স্পষ্ট করেছে দলটি।
সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ জানান, অতীতে নির্দিষ্ট কিছু এজেন্সির সিন্ডিকেটের কারণে হাজার হাজার প্রবাসী কর্মী প্রতারণার শিকার হয়েছেন এবং অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় বহন করতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমানে শ্রমবাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়ায় যদি আবারও কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা সিন্ডিকেটকে সুবিধা দেওয়া হয়, তবে তা সাধারণ কর্মীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করবে।
এনসিপির পক্ষ থেকে উত্থাপিত মূল দাবিগুলো হলো:
সিন্ডিকেট বিলোপ: কোনো নির্দিষ্ট এজেন্সির একচেটিয়া প্রভাব রাখা যাবে না। বৈধ লাইসেন্সধারী সব রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে হবে।
স্বল্প খরচে অভিবাসন: সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, যেন কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়া না যায়।
স্বচ্ছ প্রক্রিয়া: কর্মী নির্বাচন থেকে শুরু করে মালয়েশিয়া পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে ডিজিটাল ও স্বচ্ছ ডাটাবেজ ব্যবহার করতে হবে।
শ্রমিক স্বার্থ ও নিরাপত্তা: মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পর কর্মীরা যাতে চুক্তি অনুযায়ী উপযুক্ত কাজ, সঠিক বেতন এবং নিরাপত্তা পান, সে বিষয়ে কূটনৈতিক তদারকি জোরদার করতে হবে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অবদান অনস্বীকার্য। তাই নতুন করে কোনো সিন্ডিকেটের হাতে শ্রমবাজার জিম্মি হতে দিলে তা দেশের ভাবমূর্তি ও কর্মী—উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর হবে। সরকার এনসিপিসহ বিভিন্ন নাগরিক সমাজের এই দাবি বিবেচনা করে একটি বৈষম্যহীন ও উন্মুক্ত প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানোর ব্যবস্থা নেবে বলেই প্রত্যাশা সবার।
একটি উত্তর দিন