দেশের মোট ভোটারের ৪৯.২৭ শতাংশ নারী হলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি আসনে তাদের প্রতিনিধিত্ব মাত্র ২.৩ শতাংশে এসে ঠেকেছে। এই বিশাল ব্যবধানকে “না হওয়ারই শামিল” হিসেবে আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
রাজধানীতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও ইউএন উইমেনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মশালায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি রাজনৈতিক দলগুলো ও সমাজের প্রতি এই আহ্বান জানান।
প্রতিনিধিত্ব কম হওয়ার মূল কারণসমূহ:
* নেতিবাচক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি: নির্বাচনে ও রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ কম থাকার পেছনে প্রধান কারণ হলো পরিবার ও সমাজের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির অভাব। অনেক পরিবার নিজ সন্তান বা স্বজনদের রাজনীতিতে যোগ দিতে উৎসাহিত করে না।
* রাজনৈতিক দলগুলোতে কম উপস্থিতি: রাজনৈতিক দলগুলোতে নারী কর্মীদের সংখ্যা কম থাকায় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রেও তারা পিছিয়ে পড়ছেন। রাজনৈতিক দলে যদি ৫০ শতাংশ নারী কর্মী থাকেন, তবে দলগুলোও তাদের অন্তত ৫০ শতাংশ মনোনয়ন দিতে বাধ্য হবে।
পরিস্থিতি উত্তরণে প্রস্তাবিত পদক্ষেপ:
* ইতিবাচক বার্তা ছড়ানো: “রাজনীতি খারাপ নয় এবং এতে ভালো মানুষের প্রবেশ জরুরি”—এই বার্তাটি প্রতিটি পরিবারে পৌঁছে দিতে হবে।
* দলে অধিকার ও মনোনয়ন নিশ্চিতকরণ: রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরের কাঠামতে নারীদের প্রতিনিধিত্ব, অধিকার এবং নির্বাচনী মনোনয়ন নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি সাধারণ আসনের মধ্যে মাত্র ৭ জন নারী প্রার্থী সরাসরি ভোটে জয়ী হন, যা মোট আসনের প্রায় ২.৩৩ শতাংশ। তবে নির্বাচন কমিশনের মাঠপর্যায়ের প্রশাসনে নারীদের অংশগ্রহণ ইতিবাচক বলে জানান তিনি; সর্বশেষ নির্বাচনে ১৮ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নারী ছিলেন।
ইসি আনোয়ারুল জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীদের সম্পৃক্ততা ও তাদের কণ্ঠস্বর যত জোরালো হবে, সংসদ ও জাতীয় রাজনীতিতে সঠিক প্রতিনিধিত্ব তত দ্রুত প্রতিষ্ঠিত হবে।
একটি উত্তর দিন