geopolitical উত্তাপ ও মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহের অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু-হু করে বাড়ছে। টানা ঊর্ধ্বগতির পর প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম এখন ১০০ ডলারের দোরগোড়ায় এসে পৌঁছেছে। এতে করে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি নতুন করে উসকে ওঠার আশঙ্কায় চরম উদ্বেগে পড়েছেন বাজার বিশ্লেষক ও নীতি নির্ধারকেরা।
বাজারের বর্তমান চিত্র
আন্তর্জাতিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের (Brent Crude) দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৭ থেকে ৯৮ ডলারে লেনদেন হচ্ছে এবং কিছুদিন আগেই ডেটেড ব্রেন্ট ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করে। অন্যদিকে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দামও লাফিয়ে বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৩ থেকে ৯৪ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
মূল্যের এই উল্লম্ফনের মূল কারণসমূহ:
* ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বিরোধ এবং ট্যাঙ্কার চলাচলে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের ফলে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
* হোরমুজ প্রণালী ঘিরে ঝুঁকি: বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট ‘স্ট্রেট অব হোরমুজ’ বা হোরমুজ প্রণালীতে ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে জাহাজ চলাচল ও নিরাপত্তা ব্যয় বেড়ে গেছে।
* ডিজেল ও শোধন সক্ষমতার ঘাটতি: বিশ্বজুড়ে রিফাইনারি বা শোধনাগারগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় তেলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের মূল্য মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
উন্নয়নশীল দেশের ওপর বিরূপ প্রভাব
জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশসহ আমদানিনির্ভর উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। জ্বালানি আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি এটি পরিবহন খরচ এবং খাদ্যদ্রব্যের দামে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের দাম যদি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে আরও ওপরে অবস্থান করে, তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা বড় ধরনের ধাক্কা খাবে। আপাতত সব নজর মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির সমঝোতা ও বিশ্ব সরবরাহ শৃঙ্খলের স্বাভাবিকতার দিকে।
একটি উত্তর দিন